অলৌকিক উপায়ে পেট থেকে শিকড় তোলার ভান্ডাফোঁড় করলেন প্রবীর ঘোষ।

কলকাতার কাছেই চায়ের দোকানে চলছে অলৌকিক চিকিৎসা। পরিবারের কর্তা স্বপ্নে জানতে পেরেছিলেন কিছু রোগের অলৌকিক ভাবে সমাধানের উপায়। তিনি মারা গেছেন। কিন্তু ওই চিকিৎসা এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁর স্ত্রী, ছেলে এবং বউমা। নিজেদের চায়ের দোকানেই চলে এই চিকিৎসা। ভোড় সাড়ে চারটে থেকে সকাল সাড়ে সাতটা প্রায় তিনঘণ্টা ধরে চলে এই কর্মকান্ড। ভিড় ভালই হয়। চারটে থেকেই লাইন শুরু হয়ে যায়। প্রধানত পেটের রোগের চিকিৎসা হয় এখানে। চিকিৎসকদের দাবি, কেও খারাপ কিছু খাইয়ে দেওয়ার কারণে অসুস্থ হওয়া রোগী এখানে এলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এছাড়া জণ্ডিস, পেটব্যথা, গ্যাস, ক্ষুধামান্দ্য, দুর্বলতা সহ সমস্ত পেটের অসুখই সারবে এখানে এলে।
চিকিৎসা পদ্ধতিটা কী? চায়ের দোকানের ভেতরে দুটি বেঞ্চি পাতা রয়েছে। এখানে কোনও রোগী এলে ওই বেঞ্চিতে তাঁকে শুইয়ে দেওয়া হয়। দুটি বেঞ্চিতে একসঙ্গে দুজনের চিকিৎসা চলে। বাকিরা অপেক্ষা করেন দোকানের অন্য অংশে। অথবা বাইরে। বেঞ্চে শুইয়ে দেওয়া রোগীর নাভির কাছে ঘি লাগান হয়। তারপর সেইখানে চারটি সুপারি গাছের শিকড় রাখা হয়। একটি কাঁসার বাটি মন্ত্রপূত জল সহ সেই শিকড়ের উপর বসান হয়। ওই মন্ত্রপূত জলের মধ্যে থাকে জবাপাতা, ধান ইত্যাদি। রোগীকে কিছুক্ষন ওই মন্ত্রপূত জল সহ বাটি নাভির ওপর রাখা অবস্থায় শুইয়ে থাকতে হবে। এই ভাবে শুয়ে থাকার কিছু সময়ের মধ্যেই পেটের ভেতর ক্ষতিকারক শিকড়বাকড় যা আছে সব চলে আসে বাটির মধ্যে। এই হল দৈব চিকিৎসকের রোগ সারানোর পদ্ধতি।
মানুষ এই চিকিৎসাপদ্ধতিতে বিশ্বাসও করছেন। তাই বিভিন্ন রোগ নিয়ে ভিড় জমাচ্ছেন নস্কর পরিবারের চায়ের দোকানে। ব্যবসা জমিয়ে তুলতে হাতে লেখা পোস্টারও সাঁটিয়েছেন দৈব চিকিৎসার দাবিদারেরা। পোস্টারে নাম, মোবাইল নম্বর সহ দাবি করা হয়েছে ‘এখানে ঔষুধ তোলা হয়’।
এই চিকিৎসাপদ্ধতির খবর পেয়ে ওই চায়ের দোকান কাম দৈব চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছায় ই টিভি বাংলা নিউজ-এর ‘চার্জশিট’ অনুষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। তাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। ওখান থেকে ফিরে চার্জশিটের প্রতিনিধিরা বিষয়টা সম্পর্কে চিকিৎসক শুদ্ধসত্ত্ব সেন এবং ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির সভাপতি প্রবীর ঘোষের বক্তব্য নেন। ডাক্তার শুদ্ধসত্ত্ব সেন জানিয়েছেন, কিছু মানুষ নিয়মিত চুল বা কিছু শিকড়বাকড় অখাদ্য খেয়ে থাকে। এরফলে তাঁদের পেটে একটা পিন্ড তৈরী হয়, যাকে বিজোয়ার (Bezoar) বলা হয়। তবে নাভিতে বাটি বসিয়ে তা কখনই বের করা যায়না। এটা অবৈজ্ঞানিক এবং ক্ষতিকারক।
বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির সভাপতি প্রবীর ঘোষের জানিয়েছেন, এভাবে পেটের ভেতর থেকে কোনও কিছুই বেরা করা যায়না। তবে কিছু রোগ আমাদের বিশ্বাসের কারণে নিরাময় হয়। এক্ষেত্রেও বিশ্বাসের কারণে কিছু রোগ উপশম হবে। মন্ত্রপূত কাঁসার বাটির জলে শিকড়বাকড় চলে আসা বিষয়ে প্রবীর ঘোষ জানিয়েছেন, হাতে লুকিয়ে রাখা কিছু সবার আড়ালে বাটির জলে ফেলে দেন ওই দৈব চিকিৎসার দাবিদার। বিষয়টা চার্জশিটের প্রতিনিধিদের সামনে করেও দেখান প্রবীর ঘোষ। বিষয়টা ১০০ শতাংশ বুজরুকি দাবি করে প্রবীর ঘোষ চ্যালেঞ্জ করেন, এই পদ্ধতিতে আমার দেওয়া রোগীকে সুস্থ করে তুলতে পারলে ওই দৈব চিকিৎসার দাবিদারকে ২৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে।
১০ আগস্ট ‘বুজরুকি’ শিরোনামে ই টিভি বাংলা নিউজ-এর ‘চার্জশিট’ অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ তদন্তটি সম্প্রচারিত হয়।

YouTube Preview Image
If you found this article interesting, please copy the code below to your website.
x 
Share

2 Responses to “অলৌকিক উপায়ে পেট থেকে শিকড় তোলার ভান্ডাফোঁড় করলেন প্রবীর ঘোষ।”

  1. শমীন্দ্র ঘোষ 19 August 2017 at 12:31 AM #

    অভিনন্দন জানাই প্রবীর ঘোষকে এবং “Charge Sheet” অনুষ্ঠানের কর্মীদের।

  2. Madhusudan Mahato 19 August 2017 at 2:12 PM #

    Prabirda Jindabaad..


Leave a Reply