ইসলামের দৃষ্টিতে নারী- প্রবীর ঘোষ

---বৃহত্তর ধর্ম গোষ্ঠীর মধ্যে ইসলাম এসেছে সবচেয়ে পরে, অর্থাৎ আধুনিকতম। ইসলাম ধর্ম নারীকে দিয়েছিল কিছু অধিকার যা হিন্দু, খ্রিষ্ট বা ইহুদি ধর্ম দেয়নি। তারপর শত শত বসন্ত এসেছে, বিদায় নিয়েছে। ইসলামি পুরুষতন্ত্রের ফাস আলগা না হয়ে আরও বেশি করে চেপে বসেছে। নারী আরও বেশি শৃঙ্খলিত হয়েছে। ইসলামি সমাজের বিবর্তনে আমরা দেখতে পাচ্ছি, প্রগতির পরিবর্তে সমাজ তলিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারের আবর্তে। _______________________________________________ইসলাম ধর্মগ্রন্থ কোরানে আছে [সুরা নিসা : ৩৪], "পুরুষ নারীর কর্তা, কারণ আল্লা তাদের এককে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত দান করেছেন....স্ত্রীদের মধ্যে যাদের অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তারপর তাদের শয্যা বর্জন কর এবং তাদের প্রহার কর।" ___________________________কেন প্রহার? স্ত্রী কি পুরুষের ক্রীতদাসী? নারী পুরুষকে সমান চোখে দেখে কোরান নারীকে একসঙ্গে চারটি পতি গ্রহণের অনুমোদন দিতে পারেনি। অথচ পুরুষদের ক্ষেত্রে কোরান বলছে [সুরা নিসা : ৩ ], "বিয়ে করবে নারীদের মধ্যে যাদের ভাল লাগে, দুই, তিন, অথবা চার।"________________________________________ইসলাম ধর্ম নারীকে দেখেছে পণ্য হিসেবে। ভোগের সামগ্রী হিসেবে। মানুষ হিসেবে নয়। তারই পথ নির্দেশ রয়েছে কোরানে। সেখানে বলা হচ্ছে [সুরা বাকরা ২২৩ ] "তোমাদের স্ত্রী তোমাদের শস্যক্ষেত্র ; তাই তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে খুশি প্রবেশ করতে পার। "____________________________মুসলিম শরীয়ত আইনে নারীকে কিছু আর্থিক ও সম্পত্তির অধিকার দিয়ে কেড়ে নিয়েছে নারীর মানুষ হয়ে ওঠার অধিকার। মুসলমান স্বামী চারটি স্ত্রীর ওপর যখন তখন যৌন অধিকার ফলাতে পারে, যার এক নাম অবশ্যই ধর্ষণ। মানবিকতার উপর ধর্ষণ। মুসলমান স্বামীর ধর্মীয় অধিকার রয়েছে কোনও কারণ না দেখিয়ে যে কোনও স্ত্রী কে শুধু তিনবার 'তালাক' নামক শব্দটি উচ্চারণ করে তাড়িয়ে দেওয়ার। মুসলমান স্বামী এক সঙ্গে চার স্ত্রীকে নিয়ে ঘর করার অধিকারী। তাই পুরনো এক স্ত্রীকে তালাক দিয়ে নতুন এক স্ত্রী ঘরে এনে আইনি লাম্পট্য চালাতেই পারে। এমন তালাকের সুযোগে পুরুষ সম্ভোগ করতে পারে বহু নারী। এমন যৌন উচ্ছৃঙ্খলতা ও স্বেচ্ছাচারিতা চালাবার পুরুষ সুলভ অধিকার যে ধর্ম দেয় সে ধর্ম অবশ্যই সুন্দর পৃথিবী গড়ার ধর্ম হতে পারে না।___________________________________________ধর্মের সুত্র ধরে মক্কোর সংবিধানে স্ত্রীকে স্বামীর আইনি ক্রিতদাসী করা হয়েছে। ওদেশের সংবিধানে বলা হয়েছে -- স্ত্রী বাধ্য বা বিশ্বস্ত থাকবে স্বামীর কাছে, স্বামীর পিতামাতা ও আত্মীয়স্বজনদের সম্মান করবে। স্ত্রী যদি তার মা বাবাকে দেখতে চায়, স্বামীর অনুমিত নিতে হবে। ["The sisterhood of Man" by Newland Kathleen : W. W. Norton & Co., New York : 1979, page 24 ]______________________________________________ইসলাম বিয়ে একটি চুক্তি। ইসলামে বিয়েতে পাত্রপাত্রী যে চুক্তিতে আসে, তা পাত্রপাত্রী ঠিক করে না। চুক্তি সম্পাদন করে পাত্রপাত্রীর অভিভাবক। এই চুক্তি একজন মালিকের সঙ্গে একজন গোলামের চুক্তি ভিন্ন যে কিছুই নয়, তা মুসলিম ধর্মীয় অনুশাসনে নারীদের অবস্থান নিয়ে সামান্য যে আলোচনা করেছি তাতেই যথেষ্ট বেশিই বোঝা গেছে। বিয়েতে নারীর সম্মতির কথা বলা হয়েছে বটে কিন্তু বাস্তবে এই সম্মতি একটি নিয়মরক্ষা বা অভিনয় বই কিছু নয়। অভিভাবকরা বিয়ে ঠিক করে ফেলার পর আমন্ত্রিতদের সামনে পাত্রীর সম্মতি, একটি আচারের চেয়ে বাড়তি গুরুত্ব পায়নি। __________________________________________________এমন চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পরও মধ্যপ্রাচ্যের ধনীদের মধ্যে ব্যাপক ভাবে তালাক দেওয়ার রেওয়াজ চালু রয়েছে। তালাক দিয়ে নিত্য নতুন মনপসন্দ নারীদের চুক্তি করে বিয়ে করেই চলে ধনী লম্পটরা। তারা যে স্ত্রীকে বন্ধুর পরিবর্তে ভোগপণ্য বা রক্ষিতা বই কিছু মনে করে না, এ কঠোর বাস্তব। ইসলামে বিয়ে যেহেতু চুক্তি, তাই তা যে কোনও সময় বাতিল হতে পারে। তবে বাতিল করার একমাত্র অধিকার রয়েছে পুরুষের ; নারীর নয়।____________________________________________ আরব অঞ্চলে 'ইদ্দা' নামে একটি ধর্মীয় বিধান রয়েছে। এই বিধান মতো স্বামী তিন মাসের জন্য স্ত্রীকে তালাক দিতে পারে এবং তিন মাস পরে আবার তালাক দেওয়া স্ত্রীকে গ্রহণ করতে পারে। এই মধ্যবর্তী সময়ে স্বামী কোনও নারীকে স্ত্রী করে তার চার স্ত্রী রাখার ধর্মীয় অধিকার বজায় রাখতে পারে। আরবের অনেক পুরুষ 'ইন্দা' বিধান মতো চার স্ত্রীকেই মাঝে মাঝে তিন মাসের জন্য বিদায় দিয়ে নতুন চার স্ত্রীকে নিয়ে যৌন উত্তেজনা উপভোগ করে।____________________________________________মুসলমান পুরুষ যে কোনও ধর্মের নারীকেই বিয়ে করার অধিকারী। কিন্তু মুসলমান নারী বিধর্মীকে বিয়ে করার অধিকারী নয়। সত্যিই কি বিচিত্র সাম্য! যে ধর্ম মানুষকে মানুষের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, সে ধর্ম কখনই মানুষের ধর্ম হতে পারে না। প্রতিটি অলৌকিক ও অলীক বিশ্বাস নির্ভর ধর্ম নিয়ে সামান্য পড়াশুনো করলেই দেখতে পাবেন এরা কী প্রচন্ড রকমের মানবিকতার শত্রু। এরা মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করে। সৃষ্টি করে ঘৃণা। _____________________________খ্রিষ্ট ও ইহুদি ধর্ম একই ভাবে নারীকে শয়তানের আসরে বসিয়েছে। আর তাই শোষক শ্রেণীর কাছে 'ধর্ম ' আজ এক শক্তিশালী অস্ত্র, যার সাহায্যে শোষিতদের ভেঙ্গে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলা যায় পরম নিশ্চিন্তে, অবহেলে, বিনা প্রতিবাদে, বিনা প্রতিরোধে। ________________________________________________মুসলিম দুনিয়ার বহু দেশেই 'নারী - খৎনা ' নামের এক বিভৎস, বর্বরোচিত ধর্মীয় প্রথা প্রচলিত রয়েছে। এই প্রথা মনুষ্য সমাজের কলঙ্ক বই কিছু নয়। এই প্রথা পুরুষকে মানুষ থেকে শয়তানে পরিণত করেছে। আর নারীকে পরিণত করেছে পশুতর জিবে। _____________________________________________________খৎনা প্রথা আজও প্রচলিত আছে ঘানা,গিনি,সোমালিয়া, কেনিয়া, তাঞ্জানিয়া, নাইজিরিয়া, মিশর, সুদান সহ উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে। এইসব দেশে নারীদের যৌন কামনাকে অবদমিত করে যৌন আবেগহীন যৌন - যন্ত্র করে রাখতে পুরুষশাষিত সমাজ বালিকাদের ভগাঙ্কুর কেটে ফেলে। নারীর যৌন আবেগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা নেয় যোনির প্রবেশমুখে পাপড়ির মত বিকশিত ভগাঙ্কুর। নারীদের খৎনা করা হয় ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার আগে অর্থাৎ সাধারণভাবে সাত-আট বছর বয়সে। খৎনা যারা করে তাদের বলা হয় 'হাজমী'। দু'জন নারী শক্ত করে টেনে ধরে বালিকার দুই ঊরু। দুই নারী চেপে ধরে বালিকার দুই হাত। 'হাজমী' ছুরি দিয়ে কেটে ফেলে ভগাঙ্কুর। এই সময় উপস্থিত নারীরা সুর করে গাইতে থাকেন, "আল্লাহ মহান, মহম্মদ তার নবী ; আল্লা আমাদের দুরে রাখুক সমস্ত পাপ থেকে"।___________________________________________পুরুষশাষিত সমাজ ওইসব অঞ্চলের মানুষদের মস্তিষ্ক স্নায়ু কোষের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এই বিশ্বাসের বীজ রোপণ করেছে, কাম নারীদের পাপ, পুরুষদের পুণ্য। খৎনার পর সেলাই করে দেওয়া হয় ঋতুস্রাবের জন্য সামান্য ফাক রেখে যোনিমুখ। খোলা থাকে মূত্রমুখ। খৎনার পর চল্লিশ দিন পর্যন্ত বালিকার দুই উরুকে একত্রিত করে বেধে রাখা হয়, যাতে যোনিমুখ ভালভাবে জুড়ে যেতে পারে। বিয়ের পর সেলাই কেটে যোনিমুখ ফাক করা হয়, স্বামীর কামকে তৃপ্ত করার জন্য। আবারও বলি স্বামীর কামকে তৃপ্ত করার জন্যই ; কারণ নারীর কাম তো ওরা পাপ বলে চিহ্নিত করে নারীকে করতে চেয়েছে কাম - গন্ধহীন যৌন যন্ত্র। সন্তান পেলে বা বিধবা হলে আবার নতুন করে সেলাই পড়ে ঋতুস্রাবের সামান্য ফাক রেখে। আবার বিয়ে, আবার কেটে ফাক করা হয় যোনি। জন্তুর চেয়েও অবহেলা ও লাঞ্ছনা মানুষকে যে বিধান দেয়, সে বিধান কখনো মানুষের বিধান হতে পারে না। এ তো শুধু নারীর অপমান নয়, এ মনুষ্যত্বের অবমাননা। ________________________________________________________ইসলামের বেগেশত শুঁড়িখানা আর বেশ্যাপল্লী বই কিছুই নয়। এখানে যৌন - সুখ ও ইন্দ্রিয় সুখ ভোগ করার অধিকারী পুরুষ। বেহেশতের হুরেরা সৌন্দর্যে সূর্য, চন্দ্রকেও মলিন করে। পুরুষদের জন্য বেহেশতের সুখ বিষয়ে কোরান বলছে, "ওদের সঙ্গিনী দেব আয়তনয়না হুর। "[সুরা দুখান : ৫৪], "সাবধানীদের জন্য রয়েছে সাফল্য : উদ্যান, দ্রাক্ষা, সমবয়স্কা উদ্ভিন্নযৌবনা তরুণী এবং পূর্ণ পানপাত্র। "[ সুরা নাবা : ৩১:৩৪] এই আয়তনয়না অসামান্য সুন্দরী হুরদের সঙ্গে বেহেশতে আসা পৃথিবীর পুরুষদের মিলন ঘটাবার লোভ দেখানো হয়েছে [সুরা তুর : ২০ ] কোরানে। এইসব স্বর্গসুন্দরীরা হবে অনাঘ্রাত ফুল এবং বেহেশতে আসা পুরুষরাই তাদের জীবনের প্রথম পুরুষ, সেই নিশ্চিন্ততার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে কোরানে [সুরা রহমান : ৫৬ ]। _______________________________কল্পিত স্বর্গ বেহেশতে নারীদের কোনও স্থান হয়নি। বরং মুসলিম নীতি নির্দেশক গ্রন্থে বলা হয়েছে, "নারী শয়তানের রুপে আসে আর শয়তানের রুপে যায়। "____________________________________________ইসলামে বলা হয়েছে দাসীকে ধর্ষণ অধিকার প্রভুর আছে। তাই বাজার থেকে কিনে বা যুদ্ধ জয় করে কারোর স্ত্রী বা কন্যাকে আনলে সে হবে দাসী। সেই দাসীকে বলাৎকার করলে তাতে কোনও অপরাধ বা পাপ হয় না। একথা কোরানের ২৩সুরা মুমিনূন-এ লেখা আছে। হিন্দু ধর্মের কৌটিল্যের 'অর্থশাস্ত্র'-তে বলা হয়েছে প্রভু দাসীকে ধর্ষণ করলে তা গুরুতর অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। ধর্ষণকারীর কঠোর শাস্তি হবে এবং দাসীকে এই ক্ষেত্রে মুক্তির বিধান দেওয়া হয়েছে। ----------অলৌকিক নয় লৌকিক (পঞ্চম খন্ড)। চতুর্থ সংস্করণ : আগস্ট

If you found this article interesting, please copy the code below to your website.
x 
Share

Leave a Reply