এই ঝাঁ চকচকে স্মার্টফোন শোভিত কলকাতার ভিতরেই আছে আরো এক কলকাতা।

হ্যাঁ, এরকমই এক কলকাতার খবর পাওয়া গেল দেশপ্রিয় পার্কের কাছে।

যেখানে বাবা, মার সম্মতিতেই মেয়ের শরীর থেকে "ভূত" নামাচ্ছেন এক ওঝা। মেয়েটি ওঝার মার খেয়ে আর্তনাদ করছে। কিন্তু চারপাশের জনতা নির্বাক শ্রোতা। ব্যতিক্রম একজন। তিনি সুর্য্যদেব বসু। তিনি এই ঘটনা দেখে নিকটতম থানাতে অভিযোগ করতে যান। পুলিশ নানা টালবাহানার পর তাকে জানায় এক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতিতেই সব হচ্ছে, তাই তাদের কিছুই করার নেই।

আরো, আশ্চর্যজনক ঘটনা হল ওঝা চলে যাওয়ার পর নাকি মেয়েটি স্বাভাবিক হয়ে গেছে। ফলে জনমানসে ওঝার প্রতিপত্তি বেড়েছে। ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির কাছে এই তথাকথিত অলৌকিক ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে গত সোমবার বিকেলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে আমাকে ফোন করা হয়। মূল ঘটনাটি আমি তাদের কাছেই জানতে পারি। আমার বক্তব্যে আমি জানিয়েছিলাম ভূতে ধরা নামক মানসিক রোগকে প্রধানত ৩ ভাগে ভাগ করা যায়:- হিস্টিরিয়া, স্কিটসোফ্রেনিয়া এবং ম্যানিয়াক ডিপ্রেসিভ। অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় ওঝার তথাকথিত চিকিৎসার পর রোগী সেরে উঠেছে। আমরা জানি, ভূতে ধরার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া পরিবেশে বড় হওয়া মানুষের অবচেতন মনের আজন্মলালিত ধ্যানধারণা খুবই গুরুত্ববহন করে। এই অবচেতন মনই ভূতে ধরা মানুষকে ভাবতে শেখায় ওঝার ক্ষমতা ভূতের থেকে বেশি হয়, তাই ওঝা এলে একটা সময়ে ভূতকে চলে যেতেই হয়।

কিন্তু এই 'রোগে'র মূল আমাদের সমাজব্যবস্থার গভীরে গেঁড়ে আছে। তাই সরকারের তরফ থেকে জনগণের কাছে প্রকৃত চিকিৎসার সুযোগ না নিয়ে গেলে কোনদিনই এই সমস্যার সম্পূর্ণ সুরাহা হওয়া সম্ভব নয়।

@Manish Ray chauduri,General Secretary

news link click here

If you found this article interesting, please copy the code below to your website.
x 
Share

Leave a Reply