কৃষিকাজ নিয়ে চলা কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামল যুক্তিবাদী সমিতি

444444-copy

কৃষিকাজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামল যুক্তিবাদী সমিতি। পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন গ্রামে এই কুসংস্কার দেখতে পাওয়া যায়। গত ৭ আগস্ট ২০১৭ ঝালদা-১ ব্লকের হেসাহাতু গ্রাম পঞ্চায়েতের জালমবিলি গ্রামে ‘ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি’ এবং কৃষিদপ্তরের উদ্যোগে দুপুর ২ টো থেকে ৪ টা অবধি চলে কুসংস্কার বিরোধী অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে ওঝা, গুণিন, ভূত ইত্যাদি কুসংস্কারের পাশাপাশি গ্রামবাসীদের কৃষিকাজ উদ্বোধন নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধেও মানুষকে সচেতন করা হয়। কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে এসে কৃষিকাজ শুরু করার সাহস যোগান যুক্তিবাদীরা।

পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অন্ধবিশ্বাস তাদের গ্রাম্য পুরোহিত অর্থাৎ ‘লায়া’ ধান রোপণ শুরু করার পূর্বে অন্য কেউ ধান রোপন শুরু করলে তার বাড়ীর কোনও ব্যক্তি বা গরু বা মহিষ মারা পড়বেই। এই অন্ধবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে লায়া তার নিজের জমির ধান রোপণের কাজটা বিনা পারিশ্রমিকে করিয়ে নেয়। পাশাপাশি গ্রামবাসীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অযৌক্তিক পাওনাও নিয়ে থাকে এই লায়া। সাধারণত উৎপন্ন শস্যের একটা অংশ পাওনা হিসাবে নিয়ে থাকেন লায়ারা। এমনকি এই দাবি না মিটলে লায়া নিজের জমিতে ধান রোপণ করে না। ফলে গ্রামের অন্যান্য কৃষকরাও ভয়ে তাঁদের জমিতে চাষ শুরু করতে পারেন না। অনেক গ্রামেই ‘লায়া’-র স্থানটা নেন কুড়মি সমাজের প্রধান। দীর্ঘদিনের এই প্রথা পুরুলিয়া জেলার অনেক গ্রামেই বন্ধ হয়ে গেলেও, এখনও অনেক গ্রামেই তা চালু রয়েছে। পুরুলিয়া জেলার জালমবিলি গ্রামে চাষ সংক্রান্ত এই কুসংস্কার এখনও চালু আছে বলে স্থানীয় মহকুমা শাসক জানতে পারেন। এমনকি এই কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে গতবছর জালমবিলি গ্রামে ধান রোপন করা হয়নি বলেও তিনি জানতে পারেন। মহকুমা শাসক বিষয়টি ঝালদা-১-এর বিডিও-কে জানান। জানান হয় ঝালদার ওসি এবং কৃষিদপ্তরকে। গত ১ আগস্ট ওই গ্রামে উপস্থিত হন বিডিও, ওসি, এডিও, সহ কৃষি আধিকারিক এবং কৃষিদপ্তরের কর্মী তথা ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি-র নেতা মধুসূদন বাউরি। তাঁরা গ্রামবাসীদের বক্তব্য শোনেন এবং তাঁদের বোঝান। যুক্তিবাদী নেতা মধুসূদন বাউরি ওই গ্রামের কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন,  লায়াকে বাদ দিয়েই আপনারা কৃষিকাজ শুরু করুন। আপনাদের কোনও ক্ষতি হবেনা। মধুসূদন বাউরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, আপনারার এই কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে এসে চাষ করুন। না হলে আমি এসে লায়ার আগে ধান রোপন করে দিয়ে যাবো। আমার কোনও ক্ষতি হবেনা। প্রশাসন এবং যুক্তিবাদীদের এই উদ্যোগের পর কিছু মানুষ ২ আগস্ট থেকে ধান রোপন শুরু করেন।

৭ আগস্ট ওই গ্রামে ফের উপস্থিত হন ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির অন্যতম নেতা মধুসূদন মাহাত, রামনাথ মাহাত, মধুসূদন বাউরি প্রমুখ। ওখানে পৌঁছানোর আগেই সমিতির সদস্যরা স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানকে জানিয়ে রাখেন, আমরা ওই গ্রামে যাচ্ছি। সেখানে যদি কুসংস্কারের কারণে চাষ বন্ধ থাকে, আমরা তা শুরু করে দেবো। সমিতির সদস্যরা জালমবিলি গ্রামে পৌঁছে দেখেন, তাঁরা পৌঁছানোর আগেই ওই দিন অনেক জমিতে কৃষিকাজ শুরু হয়েছে। গ্রামে পৌঁছে সমিতির সদস্যরা সচেতনতা বাড়ানোর জন্য ‘অলৌকিক নয়, লৌকিক’ অনুষ্ঠান করেন। অনুষ্ঠানে মধুসূদন মাহাত জানান, অনেক গ্রামেই এই প্রথা দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকলেও বেশ কয়েকবছর ধরে তা বন্ধ হয়ে গেছে। গ্রামের কোনও প্রভাশালী ব্যক্তি এই প্রথাকে অমান্য করেই চাষ শুরু করে দিচ্ছেন। কিন্তু তার কোনও ক্ষতিই হচ্ছে না।  এই কুসংস্কার থেকে যাতে গ্রামবাসীরা বেরিয়ে আসেন যুক্তিবাদী সমিতির পক্ষ থেকে সেই আবেদন করা হয়।

1111111-copy

444444-copy

If you found this article interesting, please copy the code below to your website.
x 
Share

Leave a Reply