ঘোলাটে ধর্মনিরপেক্ষতা

বিপুল প্রচারে সাধারণ মানুষ পরিচিত হয়েছেন ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দের সঙ্গে।

জেনেছেন ধর্মনিরপেক্ষতা কথার অর্থ ‘সব ধর্মের সমান অধিকার’!

বিপুল সরকারি অর্থব্যয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দের এই যে ব্যাখ্যা সর্বত্র হাজির করা হচ্ছে এবং একই সঙ্গে সম্পর্কিতভাবে আমাদের দেশের মন্ত্রী, আমলা, রাজনীতিকরা এমনকি রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত মন্দিরে মন্দিরে পুজো দিয়ে বেড়াচ্ছেন, গুরুদোয়ায় নতজানু হচ্ছেন, মসজিদে, গির্জায় শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছেন। দুর্গা পুজোর প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে রাষ্ট্রপতি, রাজ্যপাল, আমলা, মুখ্যমন্ত্রী গিয়ে উদ্বোধন করছেন।

‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটিকে নিয়ে কী নিদারুণভাবে অপব্যাখ্যা করে সাধারণ মানুষের মগজ ধোলাই করা হচ্ছে, ভাবা যায় না! ‘নিরপেক্ষ’ শব্দের অর্থ- কোনও পক্ষে নয়। ‘ধর্মনিরপেক্ষ শব্দের অর্থ কোনও ধর্মের পক্ষে নয়। অর্থাৎ সমস্ত ধর্মের সঙ্গে সম্পর্ক বর্জিত। Secularism শব্দের আভিধানিক অর্থ- একটি মতবাদ, যা মনে করে- রাষ্ট্রনীতি, শিক্ষা প্রভৃতি ধর্মীয় শাসন থেকে মুক্ত থাকা উচিত।

সংবিধানের মুখবন্ধের (Preamble)-এর প্রথম অনুচ্ছেদেই অন্যান্য মৌলিক নীতিগুলির মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষ (Secular) শব্দটি রয়েছে। অর্থাৎ কোনও মন্ত্রী, আমলা, রাজ্যপাল, প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি প্রকাশ্যে কোনও ধর্মাচারণ করতে পারবে না। রাষ্ট্রীয় সমস্ত রকম কার্যকলাপে ধর্মীয় অনুপ্রবেশ বন্ধ।

কিন্তু, একি! এদেশে ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে আমরা কী দেখছি! সেকুলার রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও এদেশে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করা হয়। কোনও প্রকল্পের উদ্বোধন বা শিলান্যাস হয় মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে প্রদীপ জ্বালিয়ে, পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে, নারকোল ফাটিয়ে।

কোনও রাজনৈতিক দল সাম্প্রদায়িক কাজ-কর্মের সঙ্গে জড়িত থাকলে বা সাম্প্রদায়িকতাকে পালন করার কাজে বা উস্কে দেওয়ার কাজে যুক্ত থাকলে সংবিধানের ১৯৮৯ সালের রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল্‌ (অ্যামেণ্ডমেন্ট) অ্যাক্টের ২৯ (এ) ধারা বলে ওই রাজনৈতিক দলের স্বীকৃতি খারিজ করার বিধান আছে।

উপরোক্ত ধারা মতে, দেশের সংবিধানে যে মৌলিক নীতিগুলি আছে, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে সেই মৌলিক নীতিগুলির প্রতি লিখিতভাবে আস্থাজ্ঞাপন করতে হবে নির্বাচন কমিশনের কাছে। কোনও ক্ষেত্রে কোনও দল এই নীতিগুলি অমান্য করলে নির্বাচন কমিশন ২৯(এ) ধারা বলে সেই রাজনৈতিক দলের রেজিস্ট্রেশন কেড়ে নিতে পারে।

If you found this article interesting, please copy the code below to your website.
x 
Share

3 Responses to “ঘোলাটে ধর্মনিরপেক্ষতা”

  1. asok kumar das 21 October 2015 at 1:41 AM #

    Asun er biruddhye amra adalote mamla kori. akhono o adalot niropkhso achen, ebong okhane e amra nyay bichar pete pari.

    ei prosonge akta mojar kotha boli. amerika nijeke dhormo niropeksha rashtro bole oder songbidhane likheche.kintu oder $ e lekha ache “IN GOD WE TRUST” Ami President Obamake Patra likhechilam kothata delete korbar janya. Kanona ota songbidhan birodhi sudhu noy, ota nonbeliverder mithye kotha bolte baddhya kora hochche. Athocho Obama tener prothom presidential lecchare bolechilen Non beliver ra o amerikar nagorik.Obamar office theke amar porter praptiswikar korleo uni kono action niyechen bole amar jana nei.

    Amader rastrprodhander jonogoner poisay pujo kore punya kore swarge flat book korar kono adhikar nei.poer takay punya hoyna. Jodi akanto e punya korte hoy je taka ebabod khorcha hoyeche ta tenader sorkari tohobile ferot deoa uchit. ta na hole amar vibechonaanujai onader pap khondon o hobena, swarger jaygay noroke sthan hobe, aboshya Jodi dhore neoa hoy oi sob ajgubi jaygagulo ache kota o.

    Asokdad Charbak
    California, USA

  2. Madhusudan Mahato 23 October 2015 at 9:06 PM #

    Samayopajogi post. Thank srai. Ashok babukeo dhanyabad unar udyoger janya.

  3. Manish 25 October 2015 at 2:03 PM #

    Khub e jaruri post.


Leave a Reply