জালিয়াত, প্রতারক দেবাশিস ভট্টাচার্যের নিজ জবানবন্দীতেই তার নির্লজ্জ মিথ্যাচারের মুখোশ উন্মোচন (পর্ব-৩)

মণীশ রায়চৌধুরী

মুক্তমনা বন্ধুদের অনেকেই জানেন যে ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বরে রামকৃষ্ণ মিশন আয়োজিত বিশ্বধর্ম সম্মেলনে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং স্বয়ং রাষ্ট্রপতি শঙ্কর দয়াল শর্মার যোগদানের বিরুদ্ধে ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি আরও অনেক সংগঠন কে সাথে নিয়ে ব্যাপক জনমত গঠন করে।

এত কিছুর পরেও রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার মর্যাদাকে অমান্য করে ঐ অনুষ্ঠানে যোগদান করতে এলে তাকে কালো পতাকা দেখিয়ে ধিক্কার জানানো হয়।
ফলস্বরূপ, প্রবীর ঘোষ সহ মোট ১০২ জন কে লালবাজারে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
কিন্তু, রাষ্ট্রপ্রধানকে প্রকাশ্যে কালো পতাকা দেখানোর পরেও কাউকেই একরাতও হাজত বাস করতে হয়নি।
সরকার সবাইকে সেই রাতেই ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

কারণ, ব্যাপক জনমত আমাদের সাথে ছিল।
প্রতিষ্ঠিত দেশী ও বিদেশী মিডিয়া প্রথম দিন থেকেই ঘটনাটাকে গুরুত্বের সাথে কভার করেছিল।
এমতাবস্থায়, আমাদের আদালতে নিয়ে গেলে স্বয়ং রাষ্ট্রপতির সংবিধান অবমাননা সমগ্র বিশ্বের সামনে বেআব্রু হয়ে যেত।
রাষ্ট্রশক্তিকে নতজানু করানোর এই ঘটনা সমিতির অন্যতম জয়ের একটি।

সম্প্রতি, আমরা সমিতির একটি অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ খুলেছি।
পেজটি এই প্রথম ৭ দিনেই প্রায় ৭,০০০ লোক দেখেছেন।
স্বাভাবিকভাবেই সমিতির অন্যতম জয়ের ইতিহাস রূপে লেখাটি ঐ পেজে ১১ অক্টোবর পোস্ট করা হয় এবং তা এর মধ্যেই প্রায় ৩,৫০০ জন পড়েছেন।
আর যায় কোথায়।
জালিয়াত, প্রতারক, সমিতির “স্বঘোষিত” সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস ভট্টাচার্যের চেলা চামুন্ডারা এসে লম্ফঝম্প শুরু করে দিল।
তাদের একটাই দাবি, ঐ ১০২ জনের সম্পূর্ণ তালিকা তাদের দেখাতে হবে।
এই প্রথমবার নয়।
সমিতির অনেক জুনিয়র সদস্যই আমার কাছে অভিযোগ করেছে বিভিন্ন থ্রেডে বহুবার তারা এসে একই কথা বলেছে।
আসলে বারবার এই কথা বলে তারা সমিতির এতবড় জয়ের ইতিহাসকেই মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে চেয়েছে।

আসলে “প্রবীর ঘোষকে বহিস্কারের” এত বছরের মিথ্যার ফানুস ফাটিয়ে দেওয়ার পর থেকেই ওদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে।
তাই সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদকরূপে ওদের স্মৃতি ফেরানোর দায়িত্ব আমি নিয়েছি।
এর আগে দুই কিস্তিতে দেবাশিসের ১৯৯৪ সালে লেখা একটি প্রবন্ধ পোস্ট করে ওর নির্লজ্জ মিথ্যাচার আর দ্বিচারিতার মুখোশ খুলে দিয়েছি।
তাই ঐ ঘটনা সম্পর্কে সেই সময় সমিতির মুখপত্রে প্রকাশিত কিছু গুরুত্বপুর্ণ লেখা তুলে দিচ্ছি।
প্রবীর ঘোষের লেখার পাশাপাশি ১৯৯৬ সালে তাকেই তার সমিতি থেকে বিতাড়িত করার ব্যর্থ অপচেষ্টার তিন মূল কান্ডারী দেবাশিস ভট্টাচার্য, সুদীপ মৈত্র এবং রাজেশ দত্তের লেখাও তুলে দিলাম।
আপনারাই দেখুন, সেই সময় সমিতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে স্বয়ং দেবাশিসকেই ঐ ঘটনার প্রতিবাদে ডাকা নাগরিক কনভেনশনের সভাপতি করা হয়েছিল।

আশা রাখব, প্রতারক দেবাশিসের যেসকল চেলারা অযথা কিচিরমিচির করে আমাদের সদস্যদের কাছে বারবার ১০২ জনের তালিকা চাইছেন তারা সেটা তাদের জালিয়াতির গুরুদেব দেবাশিস ভট্টাচার্যের থেকেই দেখে নেবেন।pg-rkm_1993
scan7 scan8 scan9 scan10 scan11rkm-convention-1rkm-convention-2

If you found this article interesting, please copy the code below to your website.
x 
Share

Leave a Reply