জালিয়াত, প্রতারক দেবাশিস ভট্টাচার্যের নিজ জবানবন্দীতেই তার নির্লজ্জ মিথ্যাচারের মুখোশ উন্মোচন

মনীশ রায়চৌধুরী

এক তথাকথিত মুক্তমনা সাম্প্রতিককালে অনেকবার প্রশ্ন করেছে, ১৯৯৬ সালে অর্থাৎ ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতিকে যখন ভাঙার সবচেয়ে বড় প্রচেষ্টা হয় তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ১১। তাহলে আমি কিসের জোরে সকলসময় যুক্তিবাদী প্রবীর ঘোষের পক্ষে কথা বলছি এবং সেই সময় সমিতির সদস্যরা এখন আর কেউ আমাদের সাথে নেই কেন? তার প্রশ্নের কারণ যে সত্যানুসন্ধান নয় বরং কুৎসা ছড়ানোই যে এর মূল লক্ষ্য তা আমি ভালই বুঝতে পেরেছি। তবুও সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমি মণীশ রায় চৌধুরী এর জবাব দেব।

১১ বছর বয়সের কথাটা সত্যি হাস্যকর। কারণ ডাইনোসর যখন এই পৃথিবীতে বর্তমান ছিল তখন তো আমি পৃথিবীতেই ছিলাম না। আমরা কেউই ছিলাম না। তবুও আমরা ডাইনোসরের অস্তিত্ব মেনে নিই, কারণ উপযুক্ত প্রমাণ আছে। একইভাবে ১৮.৮.১৯৯৬ তারিখে শ্রদ্ধেয় প্রবীর ঘোষকে তারই সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল এটা একটা নির্লজ্জ মিথ্যাচার। কারণ তিনি এখনও আমাদের সংগঠনের কর্ণধার, সভাপতি। এর আইনি প্রমাণ আগেই আপনাদের সামনে বহুবার তুলে ধরেছি।

এবার পরবর্তী প্রশ্নে আসা যাক।
প্রাক্তন সদস্যদের কেউই আমাদের সাথে নেই এই কথাটাও সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে কালের নিয়মে সাধন দা, জ্যোতি দা, অরুণ দার মত অনেকেই মারা গেছেন, অনেকেই বয়সের ভারে আসতে পারেন না। কর্মসূত্রে অনেকেই দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু, তারা নিয়মিত আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন এবং উপযুক্ত পরামর্শ দিয়ে আমাদের সমৃদ্ধ করছেন।
আর এটাই তো হওয়ার কথা। আন্দোলনের লক্ষ্য ঠিক থাকবে, গতিমান হবে। নেতৃত্বের ব্যাটন হাতে হাতে এগিয়ে যাবে। মুখগুলো বদলে যাবে, কিন্তু এগিয়ে চলা কিছুতেই থামবে না।

এছাড়াও আরও একটা মূল কারণ আছে।
সমিতির কোন সদস্য বা নেতা যখনই ব্যক্তিস্বার্থ, ঈর্ষা, লোভের কারণে আদর্শচ্যুত হয়েছে তাকেই সরে যেতে হয়েছে। যারা আমাদের লক্ষ্য, আদর্শ সম্পর্কে অবহিত আছেন তারাই জানেন আমরা আর পাঁচটা বিজ্ঞান ক্লাবের মত নয়। যুক্তিবাদ বলতে আমরা কখনোই শুধু ঈশ্বরের অস্তিত্ব বিষয়ে শুকনো আলোচনা বা দুএকটা বাবাজির ভান্ডাফোড় বুঝিনা। প্রবীর ঘোষ আমাদের শিখিয়েছেন যুক্তিবাদ হল একমাত্র সামগ্রিক জীবনদর্শন। তাই রাষ্ট্রযন্ত্রের সীমাহীন দুর্নীতি থেকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, মানবাধিকার হরণ এর প্রতিবাদ সবই আমাদের আছে যুক্তিবাদী আদর্শের অন্তর্ভুক্ত। তাই স্বাভাবিকভাবে রাষ্ট্রও আমাদের সংগঠনে ভাঙন ধরাতে সদা ব্যস্ত থাকে। ১৯৮৫ তে জন্মলাভের পর থেকেই বহু আদর্শে নিবেদিত প্রাণ নেতা বিক্রি হয়ে গেছে।
আশ্চর্যজনক ভাবে দেখা গেছে বিপ্লবী চেতনায় সমৃদ্ধ লাল টুকটুকে নেতাও রাষ্ট্রীয় কৃপা লাভের আশায় সমিতি এবং তার কর্ণধারের বিরুদ্ধে গোয়েবলসকেও লজ্জা পাইয়ে দেওয়া মিথ্যাচার করছে।

দেবাশিস ভট্টাচার্য এমনই একটা বিক্রি হয়ে যাওয়া নাম। যুক্তিবাদের অ-আ-ক-খ পর্যন্ত যিনি প্রবীর ঘোষের থেকে শিখেছিলেন। অথচ, তিনি ও তার ষড়যন্ত্রের সাথীরা একদিন সেই বটগাছটাকেই কেটে ফেলার প্রচেষ্টা করল যার আশ্রয়ে তারা এত বছর ছিল। এতবার আইনি প্রমাণ দেখানোর পরেও তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিজেকে সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলে মিথ্যা প্রচার করে চলেছেন। তার সাথে একনাগাড়ে চলছে মিথ্যা কথা, কুকথার স্রোত। সেই একই বস্তাপচা অভিযোগ। সব বই টুকে লেখা, এখন আর কেউ প্রবীর ঘোষের বই পড়েইনা, তার জাল ডিগ্রি, তিনি অসংখ্য মহিলার শ্লীলতাহানি করেছেন এবং আরও অনেক কিছু যা বলতে রুচিতেই বাধছে।

তাই এবার এই মিথ্যাচারের মুখোশ খোলা প্রয়োজন। কিন্তু, যুক্তিবাদীরা প্রমাণ ছাড়া মানবে কেন? আর এই বিষয়ে খোদ দেবাশিসের লিখিত জবানবন্দির থেকে ভাল প্রমাণ আর কিই বা হতে পারে? তাই ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হওয়া সমিতির মুখপত্রের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম। সেই সময় সমিতির অন্যতম নেতা এবং পত্রিকার অন্যতম সম্পাদক হিসেবে তিনি নিজেই প্রবীর ঘোষের বিরুদ্ধে ঘটা একের পর এক মিথ্যচার কুৎসার বিশ্লেষণ করেছেন, ভান্ডাফোড় করেছেন। প্রত্যেককে লেখার প্রতিটা পাতা পড়ার অনুরোধ করছি।
আশা রাখি, মুক্তমনা বন্ধুরা নিজেরাই দেবাশিস গোষ্ঠির নির্লজ্জ দ্বিচারিতা বুঝতে পারবেন।

scan1-copy

scan2-copy

scan3-copy

scan4-copy

scan5-copy

scan6-copy

scan7-copy

scan8-copy

scan9-copy

scan10-copy

scan11-copy

scan12-copy

scan13-copy

scan14-copy

scan15-copy

scan16-copy

If you found this article interesting, please copy the code below to your website.
x 
Share

Leave a Reply