দমদমের ‘ভূতুড়ে বাড়ির’ রহস্যভেদ করলেন প্রবীর ঘোষ

দমদমের শেঠ বাগান রোডের তিনতলা বাড়ির তৃতীয় তলায় থাকেন গৌতম কুন্ডু। পেশায় হর্কার গৌতম বাবুর ঘরে গত ২৯ মার্চ থেকে অস্বাভাবিক কিছু ঘটনা ঘটতে শুরু করে। ঘরে থাকা যেকোনও আসবাবপত্র একাএকাই পড়ে যাচ্ছে। আলমারি, বইয়ের তাক, চেয়ার, ফ্রিজ, মোবাইল কিছুই বাদ যাচ্ছেনা। এমনকি ঠাকুরের সিংহাসন উল্টে যাচ্ছে একাএকাই। তবে পরিবারের কেও কখনই কোনও কিছু পড়তে দেখেন নি। তাঁরা জানিয়েছেন, কোনও কিছু পড়ে যাওয়ার আওয়াজ শোনার পরই তাঁদের প্রতিটি ঘটনা নজরে এসেছে। আতংকে ঘুম উড়ে গেছে কুন্ডু পরিবারের। গৌতম বাবু স্ত্রী, ছেলে এবং বাবাকে নিয়ে থাকেন ওই বাড়িতে। বছর ৯ আগে গৌতম বাবুর মা অ্যাসিড খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এবছরের ২৯ মার্চ থেকে জিনিসপত্র পরতে থাকায় রটে যায় এসবই ভূতের কান্ড। কয়েকমাস ধরে ঘটে চলা এই অস্বাভাবিক ঘটনার খবর পেয়ে কুন্ডু পরিবারের ওই বাড়িতে উপস্থিতি হয় ই টিভি বাংলা নিউজ-এর ‘চার্জশিট’ অনুষ্ঠানের প্রতিনিধি। আর রহস্যের সমাধানে জন্য ওই দিন হাজির হন ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির সভাপতি প্রবীর ঘোষ। সাথে ছিলেন সমিতির অরিন্দম ভট্টাচার্য। যুক্তিবাদী প্রবীর ঘোষ পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন। তিনি জানতে পারেন, গৌতম বাবুর ১৫-১৬ বছর বয়েসি ছেলেটি দশম শ্রেণীর ছাত্র। তথাকথিত ভূতুরে ঘটনা ঘটতে হলে এই ছেলেটিকে বাড়িতে থাকতেই হবে। এমনকি সে যখন ঘুমায় ‘ভুত’ও তখন ঘুমায়। ছেলেটির মা জানিয়েছেন, ছেলেকে মামার বাড়িতে রেখে এসেছিলেন। সেই দিন এবং রাতে অস্বাভাবিক কিছুই ঘটেনি। ছেলে ঘড়ে থাকলেই জিনিস পড়ে। কিন্তু ছেলেটির গায়ে জিনিসপত্র পরে গেলেও সে আহত হয়না বলে দাবী করেছে। আতঙ্কিত কুন্ডু পরিবার প্রায় চারমাস শেঠ বাগানের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র বাস করছেন। গৌতম বাবু জানিয়েছেন, ভূতের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে ওঝা এনে ঝাড়ফুঁক করিয়েছেন। ওঝা ঝাড়ফুঁক করে জানিয়েছে গৌতম বাবুর মা-এর ‘অতৃত্ম আত্মা’ এই ঘটনা ঘটাচ্ছে। উপদ্রপ থেকে রক্ষা পেতে ওঝার পরামর্শে গয়ায় পিণ্ডদান করেছেন বলে জানিয়েছেন গৌতম বাবু। সব মিলিয়ে ২০-৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে গৌতম বাবুর। কিন্তু কিছুই ফল পাওয়া যাচ্ছে না। ছেলে ঘরে থাকলেই জিনিসপত্র পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু চার্জশিট এবং যুক্তিবাদী সমিতির তদন্তের দিন তাঁরা যতক্ষণ ওই বাড়িতে উপস্থিত ছিল ততক্ষণ কোনও জিনিসই পরল না। গৌতম বাবুর ছেলেও বাড়িতে ছিল, তবুও কিছুই পড়েনি ওই দিন। রহস্যের সমাধানের জন্য গৌতম বাবুর ছেলেটির সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন প্রবীর ঘোষ। ছেলেটি তার স্কুলের রেজাল্ট সম্বন্ধে মিথ্যে তথ্য দেয়। এমনকি দীর্ঘদিন স্কুলে না যাওয়ার কথাও সে জানায়। পরিবারের সবার সাথে কথা বলে এবং পারপার্শিক অবস্থা বিচার করে প্রবীর ঘোষ জানান, গৌতম বাবুর ছেলেই সবার অলক্ষ্যে এই ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাই সে মামার বাড়ি থাকলে এ বাড়িতে কোনও জিনিস পড়ে যায় না। সে ঘুমালে ‘ভূত’ও ঘুমায়।

৩১ জুলাই ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ শিরোনামে ই টিভি বাংলা নিউজ-এর ‘চার্জশিট’ অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ তদন্তটি সম্প্রচারিত হয়।

YouTube Preview Image
If you found this article interesting, please copy the code below to your website.
x 
Share

Leave a Reply