ধর্মের নামে নির্বিচারে পশুবলি রুখতে ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির জনস্বার্থ মামলা আদালতে গৃহীত হল।

পুরুলিয়ার বিভিন্ন মন্দিরে হাজার হাজার পশুবলি বন্ধ করতে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলা শেষ পর্যন্ত শুনানির জন্য গৃহীত হল৷ আর, তার জেরে, ‘বিশ্বাসে’র সৌজন্যে যেভাবে পুরুলিয়ার ওই সব মন্দিরে বলির নামে নৃশংসভাবে হত্যা করা হচ্ছে ছাগল এবং মহিষ, সেই সব দৃশ্যের প্রভাব থেকে বিশেষ করে সেখানকার শিশুদের এ বার রক্ষা করা সম্ভব হবে বলেও মনে করছেন মামলাকারী৷ পুরুলিয়ার ওই সব বড় মাপের মন্দিরে দুর্গা এবং কালীপুজোর সময় যেভাবে একের পর এক মহিষ এবং ছাগলকে বলি দেওয়া হয়, সে সবের দৃশ্য শিউরে ওঠার৷ এ ভাবে হাজার হাজার পশুবলির জেরে রক্তে ভেসে যায় সেখানকার চত্বর৷ এই ধরনের দৃশ্য যে সব থেকে বেশি প্রভাব ফেলে শিশুমনে, তা বিশেষজ্ঞ মনোবিদরাও বলেন৷ এ কথা জানিয়ে ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির পুরুলিয়া জেলার সম্পাদক মধুসূদন মাহাতো বলেন, ‘‘বলির নামে নৃশংসভাবে পশুদের এই হত্যা বন্ধ করার আর্জি প্রথমে আমরা স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনের কাছে রেখেছিলাম৷’’ শুধুমাত্র তাই নয়৷ সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তাঁদের তরফে প্রচারের ব্যবস্থাও হয়৷ কিন্তু, শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া তাঁদের কাছে অন্য আর কোনও উপায় ছিল না বলে তিনি জানিয়েছেন, ২০১৬-র দুর্গাপুজোর পরে কলকাতা হাইকোর্টে এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল৷ তবে, সম্প্রতি এই মামলাটি শুনানির জন্য গৃহীত হয়েছে৷ মধুসূদন মাহাতোই মামলাকারী৷ তাঁর কথায়, ‘‘রঘুনাথপুরের মন্দিরে কালীপুজোর রাতে বলি শুরু হয়৷ শেষ হয় পরের দিন দুপুরে৷ মহিষ এবং ছাগল মিলিয়ে ১০-১২ হাজার বলি দেওয়া হয়৷ এর মধ্যে ৬০-৭০টি মহিষ৷ মানবাজারের মন্দিরে দুর্গাপুজোয় পাঁচ হাজার ছাগলকে বলি দেওয়া হয়৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘প্রথাগত ভাবে বলি না দিয়ে অনেকে মিলে নৃশংসভাবে মহিষগুলিকে হত্যা করা হয়৷ ছোট থেকে বড়, সকলের সামনেই এ সব দৃশ্য ঘটে৷’’ কেন এত সংখ্যক মহিষ এবং ছাগলকে বলি দেওয়া হয়? মধুসূদন মাহাতো বলেন, ‘‘স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস৷ কোনও কিছুর জন্য কেউ মানত করলেন৷ তার পরে সেই মানতের জন্য এই বলি দেওয়ার ব্যবস্থা হয়৷ এমন বিশ্বাসে ভর করা মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় বলির সংখ্যাও এমন বেশি৷’’ জনস্বার্থ এই মামলার আইনজীবী উদয়দিত্য ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘সংবিধান অনুযায়ী বলির বিষয়টি বাধ্যতামূলক নয়৷ নৃশংসতা রুখে দিতে এই বলির বিষয়টি বন্ধ করে দেওয়া প্রয়োজন৷’’ ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির পুরুলিয়া শাখার তরফে এমনও জানানো হয়েছে, বৈজ্ঞানিক ভিত্তির উপর ধারণা না থাকার জন্য এ ভাবে ‘বিশ্বাসে’র নামে পশুদের বলি দেওয়া চলছে বছরের পর বছর ধরে৷ মধুসূদন মাহাতো বলেন, ‘‘এই বলির জন্য সব থেকে বেশি প্রভাব পড়ছে শিশুমনের উপর৷ মনোবিদরাও বলেন, ছোটবেলায় এমন বলির দৃশ্য দেখার জন্য ভবিষ্যতে কারও ক্ষেত্রে খুনের মানসিকতা তৈরি হতে পারে৷ হাজার হাজার বলির জন্য সেখানকার চত্বর যেভাবে রক্তে ভেসে যেতে থাকে, সে দৃশ্য যেমন নারকীয় তেমনই তা দৃশ্য দৃষণও ঘটায়৷’’ শীঘ্রই এই মামলার শুনানি শুরু হবে বলেও তিনি মনে করছেন৷ নিউজ লিঙ্ক নিচে দেওয়া হল।
If you found this article interesting, please copy the code below to your website.
x 
Share

One Response to “ধর্মের নামে নির্বিচারে পশুবলি রুখতে ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির জনস্বার্থ মামলা আদালতে গৃহীত হল।”

  1. Ananda 13 January 2018 at 8:47 PM #

    Khub valo prochesta Madhusudan babu. Thank you


Leave a Reply