নারী দিবসের একটি জ্বলন্ত প্রশ্ন

 রাষ্ট্র কি সত্যিই চায় ধর্ষণ বন্ধ হোক?

    প্রতিদিন সংবাদপত্র খুললেই একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা আমাদের চোখে পড়ে। প্রাসঙ্গিকভাবেই শুরু হয় ‘দুশ্চরিত্রা’ নারীর ছোট পোশাকের ‘তত্ত্বের’ চর্বিতচর্বন।

    কিন্তু, শতাংশের বিচারে তা কতটুকু? পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় আজও অধিকাংশ ধর্ষণের ঘটনাই (যার ভিতর ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স সর্বাধিক) আমাদের চোখের আড়ালে থেকে যায়।

    যদিও বা অভিযোগ দায়ের হল। শুরু হল ধর্ষকের রাজৈতিক ‘রঙ’ বিচার। শুরু হয় রাজনৈতিক ‘দাদা’দের হুমকি এবং বাড়ির লোকেদের চাকরির প্রলোভন।

    এতকিছুর পরেও যদি ধর্ষক গ্রেপ্তার হয়, তখন শুরু হয় ‘অন্তহীন’ বিচারের প্রক্রিয়া। সমাজের চাপে ধর্ষিতা আত্মহত্যা করে ফেলে তবু শেষ হয় না ‘কাজীর বিচার’।

    শরীরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিচার শেষ হলে সামনে আসে যাবজ্জীবন কারাদন্ড। অর্থাৎ, একজন ধর্ষককে আমাদের ট্যাক্সের টাকায় খাইয়ে পরিয়ে বাঁচিয়ে রাখার ব্যবস্থা করে রাষ্ট্র।

    ব্যতিক্রমী কিছু ক্ষেত্রে আদালত ‘ভুল’ করে যদি মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে তখনও উচ্চ আদালতে আবেদন করার সুযোগ পায়। তথাকথিত মানবতাবাদীরা (যারা মূলত এন জি ও) কাঁদুনি গাইতে শুরু করে “ধর্ষকও তো মানুষ, তারও তো বাঁচার অধিকার আছে”।

    তাদেরই অর্থে হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট এবং অবশেষে রাষ্ট্রপতির দোরগোড়ায় মামলা গড়াতে থাকে।

    এত কিছু পর্ব পার হলে তবে তো একটা ‘ধনঞ্জয়’-এর ফাঁসি হয়।

    এন জি ও বাবুরা বলবেন মৃত্যুদন্ড দিলেই কী ধর্ষণ বন্ধ করা যাবে? সাম্প্রতিককালের বিতর্কিত তথ্যচিত্র ‘ইন্ডিয়া’জ ডটার’-এ নির্ভয়ার ধর্ষক মুকেশের মুখেও উঠে এসেছে সেই একই কথা, যে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হলে ধর্ষণের পর প্রমাণ লোপাট করতে ধর্ষিতাকে খুনও করা হবে।

    সত্যিই কি তাই?

    ধর্ষকরা শ্রেণিগতভাবে ‘লুম্পেন’। এরা লোভী, ভিতু ও সুযোগসন্ধানী হয়। এদের প্রত্যেকেরই চূড়ান্তভাবে মৃত্যুভয় আছে। কিন্তু, তারা জানে ভারতীয় বিচারব্যবস্থার সাথে চু-কিৎকিৎ খেলে ধর্ষণ করেও তারা বহাল তবিয়তেই বেঁচে থাকবে।

    তাই কুছ পরোয়া নেই। ধর্ষণ চলছে, চলবে।

    বিতর্কিত তথ্যচিত্র ‘ইন্ডিয়া’জ ডটার’ ভারতীয় বিচারব্যবস্থাকে সমস্র বিশ্বের সামনে বিরাট প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

    সেজন্যই কি রাষ্ট্রের এই গাত্রদাহ?

     “আন্তর্জাতিক নারীদিবস’ উপলক্ষে হিউম্যানিস্টস অ্যাসোসিয়েশন ও ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি-র পক্ষ থেকে ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছি।

    রাষ্ট্রপতির কাছে অন্যান্য সভ্যদেশগুলির মতো একমাসের ভিতর ধর্ষণের মামলার বিচার সম্পন্ন করে ধর্ষককে মৃত্যুদন্ডে দণ্ডিত করার আবেদন জানাচ্ছি।

 

                         হিউম্যানিস্টস অ্যাসোসিয়েশন

                        ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির

 

If you found this article interesting, please copy the code below to your website.
x 
Share

2 Responses to “নারী দিবসের একটি জ্বলন্ত প্রশ্ন”

  1. Madhusudan Mahato 9 March 2015 at 4:24 PM #

    Rastra Chai na Bandha Hok. Haito emano hate pare Khamatadharira Adhikangsai Dharsak???………………..

  2. Creative Pankaj 12 March 2015 at 2:39 AM #

    রাষ্ট্র কখনওই চায় না ধর্ষণ বন্ধ হোক। বরং রাষ্ট্রই শোষিত মানুষদের প্রতিনিয়ত ধর্ষণ করে চলেছে। রাষ্ট্র নারীমুক্তি বলতে নারীদের সব কাজে অংশগ্রহণকে মনে করে। নারী-পুরুষে ভেদাভেদ দূর করতে, সাম্য আনতে রাষ্ট্র কখনওই চায় না। বরং এই রাষ্ট্র ভালো করেই জানে এই নারী-পুরুষে ভেদাভেদ বজায় রাখতে পারলে আখেরে তাদেরই লাভ। কেউই সংযুক্তভাবে বুর্জোয়া রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারবে না, বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকবে একে ওপরকে দোষারোপ করে করে। এই সমাজকে রাষ্ট্র অসুস্থ সংস্কৃতির পরিমন্ডলে জড়িয়ে রাখতে সচেষ্ট।
    জুভেনাইলকে ছেড়ে দেওয়া উচিত হয়নি। ওর যা বয়স তাতে ওর পরিপক্ক টনটনে জ্ঞান। ওকেও ফাঁসি দেওয়া হোক। যারাই ধর্ষণ করবে এমনকি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদেরও শাস্তি দেওয়া হোক নির্মমভাবে। শাস্তি হোক অন্ডকোষ সমেত লিঙ্গ কেটে দেওয়া।


Leave a Reply