ভূত তাড়ানোর নামে অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার ভান্ডাফোঁড়

মধ্যমগ্রামের কাছেই এক মন্দিরে চলছে ভূত তাড়ানোর জন্য ঝাড়ফুঁক। এই অবৈজ্ঞানিক কাজ চালাচ্ছেন বছর ৬৫-৭০-এর এক বৃদ্ধা। বৃদ্ধার দাবি,  যেকোনও রোগী অথবা ভূতেধরা ব্যক্তি এলে তিনি তাঁকে সুস্থ স্বাভাবিক করে তোলেন। এমনকি অন্য কোনও সমস্যা নিয়ে এলেও সমাধান হয়ে যায়। সবকিছুই হয় ঝাড়ফুঁক-জলপড়া-তাবিজকবজের সাহায্যে। অর্থাৎ দৈব উপায়ে। বৃদ্ধা জানিয়েছেন, তাঁর যখন বছর ৩০ বয়স সেই সময় স্বপ্নে তিনি এই ঝাড়ফুঁক করতে শেখেন। তখনই এই মন্দিরটি তৈরী করা হয়। এখনও তিনি ওই মন্দিরে ঝাড়ফুঁক চালিয়ে যাচ্ছেন। এই চিকিৎসা পদ্ধতির খবর পেয়ে ওই মন্দিরে পৌঁছান ই টিভি বাংলা নিউজ-এর ‘চার্জশিট’ অনুষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। তাঁদের গাড়ির চালকের শারীরিক সমস্যার কথা জানিয়ে বৃদ্ধাকে সমাধান করে দেওয়ার আবেদন করেন। বৃদ্ধা গাড়ির চালক মনোজ যাদব-কে সামনে বসিয়ে শুরু করেন ঝাড়ফুঁক। কিছুক্ষণ ঝাড়ফুঁক চলার পর বৃদ্ধা জানান, চালকের গায়ে খারাপ হাওয়া লেগেছে। রেলে কাটা পড়া এক ব্যক্তির খারাপ আত্মা ১৮ দিন আগে মনোজ যাদব-এর উপর ভর করেছে। সেই কারণেই নানা শারীরিক সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু মনোজ যাদবের আসল কাহিনী কী? না তাঁর কোনও শারীরিক সমস্যাই ছিল না। বৃদ্ধার দৌড় জানতে ‘চার্জশিট’ টিমের পরিকল্পনা মাফিক মনোজ যাদব শুধু অসুস্থতার অভিনয় করেছিলেন মাত্র। চালকের এই অভিনয়ই অলৌকিক ক্ষমতার দাবীদার ওই বৃদ্ধার রহস্য ফাঁস করে দিল। ২১ আগস্ট ‘যেখানে ভূতের ভয়’ শিরোনামে ই টিভি বাংলা নিউজ-এর ‘চার্জশিট’ অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ তদন্তটি সম্প্রচারিত হয়। অনুষ্ঠানে বিষয়টি সম্পর্কে ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির সভাপতি প্রবীর ঘোষের মতামতও প্রচারিত হয়। প্রবীর ষোষ জানিয়েছেন, আমাদের বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা বিশ্বাসের কারণে নিরাময় হয়ে থাকে। এক্ষেত্রেও ঝাড়ফুঁক-জলপড়া-তাবিজকবজে বিশ্বাসী কিছু মানুষের কিছু রোগ বিশ্বাসের কারণেই উপশম হবে। ভূত অথবা আত্মায় ভর করা প্রসঙ্গে প্রবীর ঘোষ জানিয়েছেন, এটা একটা মানসিক রোগ। মানুষ অবেচতন মনে অনেক কিছুই যে করতে পারে সেটা তিনি হাতেনাতে করেও দেখান। ‘চার্জশিট’ অনুষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সামনে সম্মোহনের মাধ্যমে বিষয়টি তিনি ব্যাখ্যা করেন।

YouTube Preview Image
If you found this article interesting, please copy the code below to your website.
x 
Share

Leave a Reply