AFSPA & its legitimacy

by Ashoke Mitra

আফস্পা কতটা ন্যায়সঙ্গত?

[২০১০ সালের জুলাই মাসের একটি নিবন্ধ—দি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় শ্রী অশোক মিত্রের লেখা। তার কিছু অংশ আবাব্র তুলে দি্লাম ও বাংলায় অনুবাদ করলাম। উদ্দেশ্য – সমস্ত  মানবাধিকার কর্মী, সমস্ত সমাজ সচেতন মানুষ সহ, প্রশাসক ও রাজনৈতিক নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।]

“… ভারতের সংবিধান অনুযায়ী দেশের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দাযিত্ব সেনাবাহিনীর ওপরে অর্পণ করা যায়না। সে দায়িত্ব রাজ্য প্রশাসনের।‘আফস্পা’ বা AFSPA সংসদে পাশ করা হয়েছিল এই বাধাটি কে টপকে যাওয়ার জন্যেই। সংবিধানের চৌহদ্দির মধ্যে থেকে কীভাবে দেশটাকে চালানো হবে তা তো ঠিক করবেন যে সব নেতারা লোকসভা বা রাজ্য বিধান সভায় বসে আছেন, তাঁরা। অতএব তাঁদেরই কর্তব্য ‘আফস্পা’র মত এইসব আইন, যা তাঁরা নিজেরা তৈরি করেছেন সেগুলিকে মাঝে মাঝে রিভিউ করা। যখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমানে খবর আসছে এই আইনের বিপক্ষে, যখন দেশের মানুষের মধ্যে একটা ক্ষোভ দানা বাঁধছে, তখন এটাই স্বাভাবিক যে তাঁরা- অর্থাৎ দেশের রাজনীতিকরা একবার আলোচনায় বসবেন, খতিয়ে দেখবেন এই আইনগুলির কার্যকারিতা বা প্রয়োজনীয়তা আছে কি না। অনেকে হয়তো মনে করবেন আইনটি যেমন আছে ঠিকই আছে। অনেকে বলবেন–যেমন জম্মু কাশ্মীরের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বলছেন – না, এর সংশোধন দরকার, যাতে সেনা কে কিছুটা হলেও অনৈতিক কাজের জন্যে অভিযুক্ত করা যায়; আবার অনেকে মনে করবেন স্বাধীন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এই আইনের প্রয়োজনই নেই।

মোট কথা AFSPA নিয়ে একটা পাবলিক ডিবেট বা খোলামেলা বিতর্ক হতেই পারত। কিন্তু না। সেনাপ্রধান স্বয়ং, নিশ্চয়ই তাঁর সহকর্মীদের পরামর্শের দ্বারা প্রভাবিত হয়েই  তা হতে দিলেন না। তাঁর মতে – আইনটি যেমন আছে তেমনই থাক, যাতে সেনাদের ক্ষমতা অক্ষুন্ন থাকে, যাতে তারা স্বাধীনভাবে মোকাবিলা করতে পারে ‘দেশদ্রোহী’দের, অর্থাৎ যাদের দেশের পক্ষে ক্ষতিকারক বলে সন্দেহ হচ্ছে তাদের। সেনাপ্রধান রীতিমত ক্রুদ্ধ – কেন কিছু কিছু নেতা এই আইনটির আমূল বিলোপ বা সংশোধন চাইছেন!

সেনা-নায়ক কি তাঁর মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছেন না? এটা তো থাইল্যান্ড নয়। এ দেশটা পাকিস্তানও নয়, যে পাকিস্তানের জনগণ থেকে রাজনৈতিক নেতা সবাই মুক্তি চাইছে! ভারতের সেনাবাহিনী, সংবিধান মতে, ভারতের নির্বাচিত সরকারের বেতনভুক কর্মচারী (চাকর)। সত্যি কথা বলতে, পদমর্যাদায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অবস্থান একজন সেনানায়কের থেকে অনেক ওপরে। এ ক্ষেত্রে সেনাপ্রধান বড়জোর একটা নোট পাঠাতে পারতেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে AFSPA তুলে দেওয়ার বিষয়ে ওঁর মতামত দিয়ে বা সাজেশান দিয়ে। কিন্তু শুধুমাত্র এ ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করার কারণে সর্বসমক্ষে নেতাদের হেয় করে মন্তব্য করার অধিকার তাঁকে কে দিল — তিনি কি বড্ড বাড়াবাড়ি করে ফেললেন না? কারুর উচিত ওঁকে ওঁর সঠিক অবস্থান টা বুঝিয়ে দেওয়া।

এ কথা ঠিক, যে ভারতে যে সব জায়গায় মিলিটারি বা প্যারামিলিটারি বিচরণ করছে – সেখানে প্রকৃত অবস্থান খুবই জটিল। কাশ্মীরের কথা ছেড়েই দিলাম – সেখানে ধর্ম, জাতিসত্বা ইত্যাদি আরও সুক্ষ্ম বিষয় জড়িত। অন্যান্য অঞ্চলে – উত্তর-পূর্বাঞ্চল, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তিসগড়, পশ্চিমবাংলা—যেখানেই স্থানীয় জনগোষ্ঠির অস্তিত্ব বিপন্ন ও গণ অভ্যুত্থান মাথা চাড়া দিচ্ছে, সে সব জায়গাতেই আইন-শৃঙ্খলার বিষয়টা খুবই সংবেদনশীল।এবং ঠিক সেই কারণেই এইসব অঞ্চলে শান্তিরক্ষার ভার সেনাবাহিনী বা প্যারামিলিটারির ওপর পুরোপুরি ছেড়ে  দেওয়া উচিত নয়।

উদাহরণ হিসাবে দুটি ঘটনা [লিখছেন জুলাই ২০১০ তে]-র কথা না বলে পারছিনা। পশ্চিম বাংলায় মাওবাদী দমনে যখন রাজ্য-পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী CRPF যৌথভাবে কাজ করছিল, সেই সময়ে প্রথম ঘটনাটি ঘটে। কেন্দ্রীয় বাহিনী জঙ্গলে ‘মাওবাদী সন্দেহে’ আট জনকে গুলি করে হত্যা করে এনকাউন্টারের নামে। এর মধ্যে তিনজন ছিলেন মহিলা। এই আটটা ‘বডি’ দু-হাত, দু-পা বেঁধে বাঁশে ঝুলিয়ে নিয়ে আসে সেনারা নিকটবর্তী সাবডিভিশনাল শহরে। ঠিক যেভাবে শিকারী পশুহত্যা করে বিজয়গর্বে গর্বিত হয়ে মৃত পশুদের দেহ ঝুলিয়ে আনে –সেইরকমভাবে, উল্টো করে, শক্ত দড়ি দিয়ে হাত-পা বেঁধে।

দ্বিতীয় ঘটনা টি ঘটে একটি তথাকথিত ‘মাও-অধ্যুষিত’ গ্রামে। একটি ইস্কুলের ছেলেকে পাওয়া যায়, যার হাতে লাল কালি লেগে ছিল। তক্ষুনি ধরে নেওয়া হয় যে সে ‘মাওবাদী’ পোস্টার লিখছিল। অতএব এরপর বেধড়ক মারের চোটে হাত-পা ভেঙ্গে দেওয়া হয়।

উপরোক্ত দুটি ঘটনায় টার্গেট বা লক্ষ্য ছিল ‘মাওবাদী’, কিন্তু ভুক্তভোগী রা ঐ অঞ্চলের সাধারণ আদিবাসী। এরকম ঘটনা খুঁজলে ভারতের সমস্ত আদিবাসী অঞ্চলে পাওয়া যাবে। এর দ্বারা কী সঙ্কেত পৌঁছয়? যে ভারতের প্রশাসনিক সিস্টেম তোমাদের—আদিবাসীদের মানুষ হিসাবে গণ্য করেনা। তোমরা পশুরও অধম; তোমাদের শিশুদেরও এরা রেয়াত দেয়না। এতে তো যাদের ‘মাওবাদী’ বলা হচ্ছে তাদেরই হাত শক্ত করা হল; গণ-অভ্যুত্থানেরই কারণ তৈরি করা হল। এরপর সিস্টেমের বিরুদ্ধে গণবিপ্লব দানা বাঁধলে তা তো অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গত!

সন্ত্রাস দমনের নামে পালটা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস শুরু করলে এর পরিণাম ভয়ঙ্কর হতে পারে। এই কাজের দক্ষ পরিচালনা দরকার, চাই সুক্ষ্ম বোধ ও মানবিকতা। এই দায়িত্ব CRPF বা সশস্ত্র সেনাদের খেয়ালখুশির ওপর ছেড়ে দেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক।

সুতরাং, AFSPA কে একবার রিভিউ করার পিছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে। এবং বিষয়টা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব মোটেই সেনাপ্রধানের বা তাঁর সহকর্মীদের কাজের আওতায় পড়েনা।

অশোক মিত্র [অনুবাদঃ সুমিত্রা পদ্মনাভন]

[সৌজন্যেঃ দ্য টেলিগ্রাফ, জুলাই ২০১০]

“…The country’s Constitution does not intend defense forces to be responsible for maintaining internal security; that charge belongs to state administrations. The AFSPA was passed by Parliament to circumvent that roadblock. How the country will be administered within the four corners of the Constitution is for politicians sitting in Parliament — and state legislatures — to decide. They, it follows, have the prerogative to review from time to time provisions of such statutes as the AFSPA, which they themselves had legislated. Given continuing reports of people’s unhappiness with the functioning of the act, it is only natural for politicians to wish to take another look at it. Some of them are possibly happy with the act as it is and would like to leave it in an un-amended form. Some others, for example, the current chief minister of Jammu and Kashmir, will perhaps not mind the continuation of the act, but only after the introduction of amendments which address public concerns over the seeming absence of accountability in the act. There might yet be other politicians who would rather scrap the act in its entirety, since in their view it goes ill with the mores of a free democratic society.

In sum, there is scope for a public debate on aspects of the AFSPA. The army chief of staff — who no doubt had the benefit of the advice of his service colleagues — looks with disfavor on such a debate. He would like the act to continue in its present form, which allows military personnel a free hand while dealing with elements suspected of waging war against the State. He is actually in some fury, and has gone to the length of questioning the motives of politicians who want to either do away with or drastically amend the act.

Is not the army boss forgetting his station? India is no Thailand; it is no Pakistan either, surely not the Pakistan people and politicians over there are currently trying to extricate themselves from. The armed forces in India are the Constitution lays down, servants of an elected government. The government is elected by politicians who are members of parliament. The status of politicians who are elected as representatives of the people is way superior to that of the army chief. It is, of course, within the range of the army chief’s responsibilities to speak — or send a note to the defense secretary and, through the secretary, to the defense minister, in case he feels apprehensive about proposals to amend or abolish the AFSPA. But that is all. To presume that he can publicly dress down politicians who hold views different from his on the merits of the act is a bit too much; somebody needs to advise him where to draw the line.

For the ground reality in regions of the country where military or paramilitary forces have been — or are being considered to be — deployed is often excruciatingly complex. Leave aside at-this-moment-once-more-a-boiling-cauldron Kashmir, where factors such as religion and national identity further cloud the picture. Even in the other regions afflicted by insurgency — whether the north-eastern belt or states like Chhattisgarh, Orissa, Jharkhand and West Bengal — stark issues of ethnicity render enforcement of law and order bewilderingly difficult. It would be foolhardy to delegate this to the discretion of military or paramilitary personnel.

Two recent incidents in West Bengal, where the Central Reserve Police Force is engaged jointly with the state police in tracking down Maoists, are worth mentioning in this context. In the first incident, the CRPF shot down in a forest encounter eight suspected Maoists, three of them women. The bodies of those killed were brought back from the forest to the nearest sub-divisional town as trophy: the hands and feet of each were separately bound and then hung, upside down, with the help of a strong rope, from a bamboo pole, precisely the manner in which a carcass is brought back when villagers return from a successful hunt of wild boar or of any other predatory animal.

In the other episode, in a supposedly Maoist-infested village, the CRPF accosted a schoolboy, the fingers of whose right hand were smeared with red ink. He must have been, it was instantly concluded, writing posters extolling the Maoist cause. Suspicion was reckoned as proof; the boy was set upon and beaten black and blue.

In both incidents, Maoists are the target, but the victims happen to be adivasis, and this is true in almost every part of the country where conditions of rebellion prevail. The incidents are bound to be grist for the Maoist propaganda mill: the system does not consider you, adivasis, as human beings, they treat you as beasts, even your children are not spared, you therefore have every right to rise in revolt against the system.

Awesome consequences can follow if counter-insurgency operations are not supervised with finesse and imagination, a responsibility too risky to be left to the whims of the CRPF or the armed forces. There is therefore enough logic in seeking a review of the AFSPA. This matter does not fall in the domain of the chief of staff or his colleagues.”

Courtesy: The Telegraph, JULY 2010

Supreme Court on encounter killings by Police

“Fake encounter killings by cops are nothing but cold-blooded brutal murder, which should be treated as the rarest of rare offence and police personnel responsible for it should be awarded death sentence. They should be hanged.”—Justice Markandey Katju said in connection with encounter case in killing of a gangster in Rajasthan.

[Times of India, page-1, 09.08.2011]

পুলিশের গুলিতে এনকাউন্টারের নামে হত্যা করার ক্ষেত্রে সেই হত্যাকে একেবারে ঠান্ডা মাথায় খুন বলে অভিহিত করা উচিত। গুলি বিনিময় নাম দিয়ে সাজানো হত্যাকে রেয়ারেস্ট অফ দ্য রেয়ার অর্থাদুর্লভতম নৃশংস খুনের ঘটনা হিসাবে গণ্য করে অপরাধী পুলিশকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া উচিত। ওদের ফাঁসি হওয়া উচিত।—বল্লেন বিচারপতি মার্কন্ডেয় কাটজু, রাজস্থানের এক ডাকাতের হত্যা প্রসঙ্গে।

[টাইমস অফ ইন্ডিয়া, পৃ ১, ৯।৮।২০০১]

If you found this article interesting, please copy the code below to your website.
x 
Share

6 Responses to “AFSPA & its legitimacy”

  1. Anabil 17 September 2011 at 10:07 PM #

    Thanks for NEWS ……..

  2. suman 18 September 2011 at 8:05 AM #

    thanks srai for posting this.

  3. Ranjan mondal 18 September 2011 at 4:57 PM #

    Unconstitutional & Draconian law of the country.Thanks H.A….

  4. Dwijapada Bouri 20 September 2011 at 1:29 PM #

    Good posting

  5. Madhusudan Mahato 20 September 2011 at 2:24 PM #

    Thank SRAI for this news.

  6. sujoy chanda 23 September 2011 at 7:40 PM #

    thanks to srai and HA


Leave a Reply