নীল জলের বোতল দেখে সত্যিই কী কুকুর ভয় পায়?

নীল গুজব ও কুকুর কাহিনী

সঞ্জয় কর্মকার

DSC_0237 copyআপনার বাড়িতে কুকুরের খুব উৎপাত? বাড়ির চত্ত্বরে ঢুকে কুকুর মলত্যাগ করে যাচ্ছে? অথবা বাড়ি থেকে বের হতে গিয়ে প্রায় দিনই দেখতে পাচ্ছেন গেটের ঠিক সামনে কুকুর মলত্যাগ করে রেখেছে?

          নো-প্রবলেম। সমস্যার সমাধান এসে গেছে। না, এই সমাধানের জন্য আপনাকে খুব বেশি টাকা খরচ করতে হবে না। এমনকি আপনার কী করনীয় সে বিষয়ে উপযুক্ত পারিশ্রমিক দিয়ে কারও কাছ থেকে পরামর্শ নিতেও যেতে হবে না। শুধু আপনাকে ‘গুজব’-এ কান দিতে হবে। ব্যাস তাহলেই আপনি নিজেই সমস্যা থেকে খুব সহজেই মুক্তি পাবেন। অবশ্য কুকুরের উৎপাতের থেকে বাঁচার নব্য আবিষ্কৃত পদ্ধতিটি (গুজব) হয়ত আপনি ইতিমধ্যেই শুনেছেন অথবা নিজের চোখেই দেখেছেন। পদ্ধতিটির আবিষ্কারক কে? জানা নেই। কী ভাবে প্রচার পেয়েছে? গুজব যেভাবে ছড়ায় সেইভাবেই প্রচার পেয়েছে।

          এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে কেন বিষয়টিকে ‘গুজব’ বলা হচ্ছে? যে সমস্ত ব্যক্তি এই পদ্ধতি ইতি মধ্যেই ব্যবহার শুরু করেছেন তাঁরা কী বোকা? কেও কোনও ফল না পেলে তাঁরা কী এমনই ব্যবহার করছেন?

          হ্যাঁ, এই বিষয়গুলিই এই লেখার মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। তবে প্রথমে কুকুর তাড়ানোর ‘টোটকা’-টা আপনাদের জানিয়ে দিই। যদিও অনেকেই জানেন।

          একটি প্ল্যাস্টিক অথবা কাঁচের স্বচ্ছ বোতল জোড়াগ করুন। বিভিন্ন ঠান্ডা পানীয়র যে বোতল পাওয়া যায় সেগুলির একটা খালি করে নিলেই হল। এবার কিছুটা নীল রঙ জোগাড় করুন। জামা-কাপড় কাঁচার পর যে ‘উজালা’ দেওয়া হয় তা হলেই চলবে। বোতলটিতে নীল রঙ বা উজালা গোলা জল দিয়ে ভর্তি করুন। সামান্য কিছু ফাঁকা থাকলেও অসুবিধা নেই। এবার বোতলের ঢাকনাটি আটকে দিন। নীল জল ভর্তি বোতলটির গলায় দড়ি দিয়ে বেঁধে বাড়ির মূল ফটক, দরজা, জানালা এবং পাঁচিলে ঝুলিয়ে দিন। ব্যাস, আপনার কাজ শেষ। এবার দেখুন কুকুর একদম এলাকা ছারা হয়ে গেছে। কারণ, কুকুর নাকী নীল রং-কে হেব্বি ভয় পায়! নীল রঙের ভয়ে কুকুর শুধু এলাকাই ছাড়বে এমন নয়, মলমূত্র ত্যাগ করাও বন্ধ করে দেবে।DSC_0199 copy

          হ্যাঁ, আগেই বলেছি এই পদ্ধতিটির আবিষ্কারক কে এবং কে প্রথম প্রয়োগ করেছিল সেটা এখনও জানতে পারা যায়নি। তবে এটা প্রথম ছরিয়ে পড়ে এ রাজ্যের বরাহনগর, কামারহাটি, সোদপুর, খড়দহ, পানিহাটি, ব্যারাকপুর, সিঁথি, বনগাঁ সহ বেশ কয়েকটি জায়গায়। এমনকি কলকাতার বেশ কিছু এলাকাতেও কুকুরের উৎপাৎ থেকে বাঁচতে এই নীল জলের বোতল ঝুলিয়ে রাখার টোটকা চালু হয়। অবশ্য এরাজ্যে এই নয়া ‘টোটকা’ ব্যবহারের অনেক আগেই বেশ কয়েকটি রাজ্যের কিছু জায়গায় ব্যবহার হয়ে গেছে। প্রায় বছর খানেক আগে কেরালার কোচি সহ এরাজ্যের বাইরের বেশ কিছু জায়গায় এই গুজব ছরিয়ে পরে। কলকাতার কিছু এলাকা সহ আশেপাশের কয়েকটি জেলায় প্রভাব বিস্তার করার কয়েকদিনের মধ্যেই গুজব যে ভাবে ছরায় ঠিক সেই ভাবেই খুব দ্রুত বিষয়টি রাজ্যের অন্যান্য জেলায় ছরিয়ে পড়েছে। বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যমে ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে খবর হওয়ার ফলেও অনেক মানুষ জেনেছেন। ধনী – গরিব, শিক্ষিত – নিরক্ষর কুকুর তারানোর এই ‘টোটকা’ ব্যবহারে কেও পিছিয়ে নেই। অনেকেই বিশ্বাস নিয়ে নীল জলের বোতল ঝোলাচ্ছেন। অনেকে আবার ‘দেখি না কী হয়’ –এই মানসিকতা থেকেও বাড়িতে নীল জলের বোতল ঝোলাচ্ছেন।

          বিষয়টি নিয়ে প্রথমে আমরা অতটা মাথা ঘামাই নি। ভেবে ছিলাম মাঝে মাঝে এই ধরণের এক একটা গুজব তৈরী হয়, আবার কিছুদিন পর সবার ওই গুজবটিকে কেন্দ্র করে তৈরী হওয়া মোহ কেটে যায়। যেমন, গণেশ বা গোপাল-এর পাথর-মাটি-ধাতুর মূর্তি দুধ খাওয়া অথবা যৌনাঙ্গ ছোট হয়ে যাওয়ার মত গুজব তৈরী হয়। আবার কিছুদিন পরই হাওয়া হয়ে যায়। নীল জলের গল্পও কয়েকদিনের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাবে ভেবেছলাম। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখলাম, নীল জলের গুজব দিনকে দিন বেড়েই চলছে। বেশ কয়েকটি জেলার অনেক এলাকায় এটা ছরিয়ে গেছে। যার মধ্যে ২৪ পরগণা, বর্ধমান, বাঁকুড়া জেলা রয়েছে। আমরা নিজেরা নিজেদের যুক্তিবুদ্ধি দিয়ে বিচারের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি নীল জলে কুকুরের ভয় পাওয়ার বিষয়টি একেবারেই অবাস্তব।

          বাস্তব চিত্রটা নিজেরা দেখা এবং মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য বর্ধমান শহরের বেশ কয়েকটি এলাকা আমরা কয়েকদিন ধরে ঘুরেছি। ১৮, ২০, ২১, ২২ ও ২৫ সেপ্টেম্বর এই পাঁচদিন ধরে এলাকাগুলি ঘুরে এই বিষয়ে বেশ কিছু প্রমাণ্য ছবি আমরা তুলেছি। কারণ, মানুষকে মুখে কোনও একটা বিষয়ে কিছু বলার থেকে তাঁকে ওই বিষয়ে ফটো বা ভিডিও দেখাতে পারলে অনেক বেশি বিশ্বাস যোগ্য হয়।

DSC_0013 copy          আমরা প্রতিদিনই দেখতে থাকলাম, নীল জলের বোতলকে কোনও রকম তোয়াক্কাই করছে না সারমেয়রা। কোথাও নীল জলের বোতলের সামনে বসে আছে কুকুর। কোথাও যেখানে শুয়ে আছে তার ঠিক উপরে গ্রিল থেকে নীল জলের বোতল ঝুলছে। কোথাও নীল জলের বোতল বাঁধা গ্রীলে ঠ্যাঙ উচু করে মূত্র ত্যাগ করতেও দেখা গেল। পরিবারগুলির বাড়ির ভেতরে কী অবস্থা দেখতে পাওয়া যায়নি। তবে রাস্তায় কুকুরের মল ঠিকই রয়েছে। অধিকাংশ বাড়ি এখন পাঁচিল দিয়ে ঘেরা থাকে এবং গেট সবসময় বন্ধ থাকে ফলে বাড়ির ভিতরে ঢুকে পরা এবং মলত্যাগ করার সুযোগ কুকুরেরা অনেকটাই কম পায়। তারই মধ্যে দেখাগেল বর্ধমানের ছোটনীলপুরের অরুন দাশগুপ্ত সরণীর একটি বাড়ির চারিদিকে নীল জলের বোতল বাঁধা থাকা সত্ত্বেও একটি কুকুর ঢুকে গেছে। তা দেখতে পেয়ে এক মহিলা তেড়ে গিয়ে বিরক্তির সুরে বললেন, “হই শিশি ঝোলান হয়েছে কী জন্য চল”। গেট খোলা থাকার সুযোগে ঢুকে পড়া ওই কুকুরটি তৎক্ষণাৎ তাড়া খেয়ে বাইরে বেরিয়ে এল। নীল জলের বোতল বাঁধা থাকা সত্ত্বেও ছোটনীলপুর এলাকার আর একটি বাড়ির ভিতরে ঢুকে কুকুর মলত্যাগ করেগেছে। তা দেখে ওই বাড়ির বাসিন্দারা নীল জলের কার্যকারীতা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। এই রকম উদাহরণ প্রচুর রয়েছে।

DSC_0220 copy          আবার বাড়ি অথবা অন্য কোনও ভবনের গেট বা দেওয়াল নীল রঙ কিন্তু কুকুর কোনও রকম ভয় না পেয়েই তার কাছেই রয়েছে এমনও দেখা গেল। যাঁরা বলছেন নীল রঙকেই কুকুর ভয় পায় তাঁদের একটা উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা জানাচ্ছি, বর্ধমান টাউন স্কুলের গেটের রঙ নীল এমনকি ওই স্কুলের ছাত্রদের প্যান্টের রঙও নীল। কিন্তু ওখানে গিয়ে দেখা গেল স্কুল চত্ত্বের বেশ কয়েকটা কুকুর ঢুকে রয়েছে। তারা নীল গেটের কাছাকাছিই রয়েছে। কুকুরগুলির পাশ দিয়ে হেঁটে চলেছে নীল রঙ-এর প্যান্ট পড়া ছাত্ররা। কোনও ভ্রক্ষেপই নেই। এমনকি একটি কুকুরকে দেখাগেল নীল গেটের ফাঁকে থাকেতেই সে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করছে।

                    পাশাপাশি, অনেককেই দেখা গেল, নীল জলের বোতলে কাজ হচ্ছে, কী হচ্ছেনা সে বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে না আসতে পারলেও তাঁরা চিন্তিত তাঁদের পোষ্য কুকুরটিকে নিয়ে। যেমন, বর্ধমান শহরের সুনীল দাস সরণীর বৃদ্ধা মায়া দাস। সুনীল দাস সরনীতে একটি কুকুরকে নীল জলের বোতলের কাছেই বসে থাকতে দেখে আমরা যখন ফটো তুলছি ওই মহিলা আমাদের কাছে এসে কারণ জিজ্ঞাসা করেন। সব শুনে মায়া দাস জানান, এই কুকুরটা ওনার। নাম জনি। দিনে তাঁর বাড়িতে খায়, রাতে রাস্তায় থাকে। তিনি জানতে চান, এরকম করলে ওরা কোথায় যাবে। কোথায় পায়খানা করবে? রাতে পাহারাদেওয়ার কাজ কে করবে? পাশাপাশি তিনি এও জানান, নীল বোতলে এলাকায় কুকুর কমেনি।DSC_0094 copy

এবার দেখা যাক বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন। বিভিন্ন প্রাণীবিদ ও গবেষকদের তথ্য থেকে জানা গেছে, কুকুর আংশিক বর্ণান্ধ। কুকুর রঙ দেখতে পায়, কিন্তু কুকুরের দেখা আর মানুষের কোনো রঙকে দেখার মধ্যে অনেকটাই পার্থক্য আছে। রঙ দেখতে ‘কোন’ কোষের প্রয়োজন। এই কোষ মানুষের তুলনায় কুকুরের অনেক কম। এছাড়া আলোর প্রতিক্রিয়া যেভাবে মানুষের মধ্যে ঘটে কুকুরের ক্ষেত্রে ঘটে অন্যভাবে। এর ফলেও কুকুরের রঙ দেখার বিষয়টি মানুষের থেকে বেশ কিছুটা আলাদা। মূলত কুকুর নীল এবং হলুদ রঙ দেখতে পায়। তাছারা ধূসর দেখে। তবে নীল রঙ দেখলে কুকুর ভয় পায় বা কুকুরের মস্তিষ্কে কোনো বিশেষ উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এমন কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য জানা যায়নি।

          বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাণীসম্পদ বিকাশ বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ( Veterinary Research & Investigation) জানিয়েছেন, জলাতঙ্ক বহনকারী কুকুরের ফটো ফোবিয়া দেখা যায়। অর্থাৎ, জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস বহনকারী কুকুর কোনও কালার অথবা সান লাইট দেখলে ভয় পায়। কিন্তু, সে ক্ষেত্রে শুধু নীল রঙ দেখে ভয় পাবে এমন নয়। আর জলাতঙ্ক বহন না করলে সেই সমস্ত কুকুরের ফটো ফোবিয়া থাকার কথা নয়। আর আমাদের আশেপাশের বেশির ভাগ কুকুরই জলাতঙ্ক-এর বাহক নয়। নীল জল বোতলে ভোরে ঝুলিয়ে রাখার বিষয়টার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। নির্বীজকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে কুকুরের বংশবৃদ্ধির নিয়ন্ত্রণ ঘটিয়ে কুকুরের উপদ্রব থেকে রেহাই পাওয়া যায় বলে তিনি জানিয়েছেন। পাশাপাশি কুকুরকে অ্যান্টি র‍্যাবিশ ভ্যাকসিন দিয়ে জলাতঙ্ক মুক্ত রাখা যায়। এই দুটি বিষয়ে মানুষকে সচেতন হতে হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

          নীল জল প্রসঙ্গে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক চন্দ্র শেখর চক্রবর্তী (এম এস সি / এম ফিল / পি এইচ ডি ) জানিয়েছেন, এর সাথে বিজ্ঞানের কোনও সম্পর্ক নেই। কুকুরের সবথেকে উন্নত ঘ্রাণশক্তি। যদি ভয় পাওয়ানোর ক্ষেত্রে কোনও বিশেষ গন্ধের কথা বলা হত তাহলেও বিষয়টা ভাববার ছিল। কিন্তু এক্ষেত্রে শুধু নীল জলের বোতল দেখেই কুকুর ভয় পেয়ে যাবে এটা ঠিক নয়। সব নীল জলের বোতল থেকে একই রকম বিশেষ কোনও গন্ধ বের হওয়ারও সম্ভাবনা নেই। তিনি আরও জানিয়েছেন, কোনও কোনও প্রাণীর ক্ষেত্রে কোনও কোনও রঙ দেখতে পাওয়া কিংবা না দেখতে পাওয়ার বিষয় রয়েছে। তাইবলে কোনও রঙ দেখতে পেলেই তা দেখে ভয় পেয়ে যাবে এই তত্ত্ব ঠিক নয়।

          বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক গৌতম চন্দ্র ( এম এস সি / পি এইচ ডি / ডি এস সি ) জানিয়েছেন, বিষয়টা আমি শুনেছি এবং বেশ কিছু জায়গায় দেখেছিও। জানার পর বিষয়টা নিয়ে স্টাডি করেছি। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর পূর্বের জ্ঞান এবং এই গুজবটি শোনার পর নতুন করে স্টাডি করে তিনি দেখেছেন কুকুর দুটি রঙ পরিষ্কার দেখতে পায়। সেই দুটি রঙ হল নীল ও হলুদ। মানুষের চোখে কুকুরের তুলনায় অনেক বেশি কোন কোষ থাকে। ফলে মানুষ রামধনু-র সাতটি রঙকেই আলাদা ভাবে দেখতে পেলেও কুকুর তা পায় না। কুকুর শুধু নীল ও হলুদ রঙ দেখতে পায়। কিন্তু নীল রঙ দেখে কুকুর ভয় পায় এই তত্ত্বের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কুকুর নীল রঙ দেখতে পাওয়ার কারণে ভয় পেলে একই যুক্তিতে হলুদ রঙ দেখেও কুকুরের ভয় পেতে হয়।

          পাশাপাশি তিনি এটাও জানিয়েছেন, অভ্যাসগত বা শর্তাধীন প্রতিবর্ত ক্রিয়ার কারণেও এই ধরণের ঘটনা ঘটা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যেই প্রতিবর্ত ক্রিয়ার সঙ্গে কুকুরের নীল জলে ভয় পাওয়ার একটি তত্ত্ব কেও কেও সামনে আনার চেষ্টা করছেন। অধ্যাপক গৌতম চন্দ্র জানিয়েছেন, বিজ্ঞানী প্যাভলভ প্রতিদিন নির্দিষ্ট এক সময়ে ঘন্টাধ্বনি করে একটি কুকুরকে খাবার দিতেন। এইভাবে কয়েকদিন অনুশীলনের পর একদিন কুকুরটিকে খাবার না দিয়ে কেবল ঘণ্টাধ্বনি করে দেখলেন যে, কুকুরটির লালা নিঃস্বরণ হচ্ছে। এরকম প্রতিবর্ত ক্রিয়াকে প্যাভলভ অভ্যাসগত প্রতিবর্ত ক্রিয়া বা শর্তাধীন প্রতিবর্ত ক্রিয়ারূপে (Habitual or Conditional reflex action) অভিহত করেন। অনেকে প্যাভলভের এই  তত্ত্বটির সঙ্গে নীল জলের বিষয়টি গুলিয়ে দিয়ে কুকুরের ভয় পাওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এই তত্ত্ব অনুযায়ী বিচার করলে, একটি বোতলে নীল জল ভরে কয়েকদিন ধরে সেই বোতল দিয়ে একটি কুকুরকে মারা হলে কিছুদিন পর ওই নির্দিষ্ট কুকুরটিরই ওই জলের বোতলটার উপর ভীতি তৈরী হবে। এর ফলে বিশ্বের সব কুকুরই নীল জল দেখে ভয় পাবে এমন নয়। তাই কুকুরের নীল রঙের জলে ভয় পাওয়ার বিষয়টার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।

          রাজ্য প্রাণী স্বাস্থ্য কেন্দ্র বর্ধমানের ভেটেরিনারী অফিসার পশু চিকিৎসক শিশির কুমার পাঁজা জানিয়েছেন, বিষয়টা তিনি দেখেছেন। কিন্তু সাধারণ কুকুরের ক্ষেত্রে নীল রঙের জল দেখে ভয় পাওয়ার বিষয়টা একেবারেই ভিত্তিহীন। একমাত্র কোনও কুকুর জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস বহন করলে সে ক্ষেত্রেই ওই কুকুরটি উজ্জ্বল রঙ অথবা সূর্যাআলোক দেখে ভয় পায়।

          অর্থাৎ, বিষয়টাকে ‘গুজব’ বলা ছারা আর কোনও উপায় নেই। আর এই গুজবকে বিশ্বাস করেই মানুষ বাড়িতে নীল জলের বোতল বেঁধে চলেছেন।

If you found this article interesting, please copy the code below to your website.
x 
Share

14 Responses to “নীল জলের বোতল দেখে সত্যিই কী কুকুর ভয় পায়?”

  1. ধৃতিমান 1 October 2015 at 12:56 AM #

    দাদা, অসাধারণ একটি তথ্যমূলক আর্টিকেল, অনেকের ভুল ভাঙবে এবার। অতিব ধন্যবাদ।

  2. dr. siddhartha sarkar 1 October 2015 at 5:25 AM #

    thank you

  3. Jaybrata 1 October 2015 at 12:02 PM #

    We are experimenting with the same. We found that movement of dogs have reduced and we are yet to find any dog shit within the area after the blue water filled bottles are place. Dog shit was a regular incidence before that. But dogs found sitting next to a bottle, that means they don’t fear such things. But it looks like they feel some sort of unease with these bottles, causing them to reduce their movement in the area and natural activity. Also mating activity stopped in the said area. It also looks like the violet tinted blue dye (e.g. Ujala) works better. We need to observer for a longer period, before reaching any conclusion. Please don’t jump any gun with deductive logic in a rationalistic craze. This is against true scientific spirit.

  4. umashankar 1 October 2015 at 2:13 PM #

    very nice

  5. Madhusudan Mahato 1 October 2015 at 3:56 PM #

    Ha! Ha!

  6. Dipankar ghosh 1 October 2015 at 7:03 PM #

    dada nera barbar beltalay jay ata proman korei char len

  7. Manish 2 October 2015 at 1:17 PM #

    Darun post.

  8. mitraani 2 October 2015 at 7:30 PM #

    I feel This is a new concept in marketing by ujala company, “marketing by spreading rumors”

  9. sujoy chanda 2 October 2015 at 7:36 PM #

    very nice article. many many congratulations!!

  10. saikat 3 October 2015 at 11:46 PM #

    actually bapar ta holo je nil jol ke kukur vabe kerosine..and kerosine jodi ekbar kukur er pechone deoya hoy ora. pechon ghoste ghoste pagol hoye jabe..oder khetre kerosine is very painful…sei karone nil jol oder kache voyer

  11. Creative Pankaj 5 October 2015 at 5:45 PM #

    নীল জলের বোতলের গুজব খুব তাড়াতাড়িই ছড়িয়েছে। আমাদের এলাকায় নীল জলের প্রভাব লক্ষ্যণীয় ছিল কিছুদিন আগে পর্যন্ত। প্রত্যেকের বাড়িতে একটা করে বোতল ঝোলানো ছিল, এমনকি রাস্তায়। অনেকে বলছিল রাস্তায় পৌরসভা থেকে লোক এসে নীল জলের বোতল ঝুলিয়ে দিয়ে গেছে কুকুরের উৎপাত থেকে বাঁচার জন্য। খোঁজ নিয়ে জানলাম পৌরসভা থেকে ঝোলায়নি। এরপর ওয়েবসাইটে পোস্টটা উঠতেই সবাইকে দেখালাম। এখন অনেক বাড়িতেই নীল বোতল ঝোলানো নেই। এমনকি কারা যেন রাস্তার লাইটপোস্টে ঝোলানো নীল জলের বোতলগুলো গায়েব করে দিয়েছে। হা হা।

  12. প্রবন্ধটি সত্যিই বড় সমৃদ্ধ ও কাজের । আমাদের এখানে অবশ্য এ গুজব ছড়ায় নি ।

  13. Dwijapada Bouri 20 October 2015 at 7:23 AM #

    Haa haa, amader frame Saotal jati sob chaite besi. Tader barite nil joler botol jhulano dekhe jigges korechilam, keno nil joler botol jhulale? And elo je eta “NILI BONGA” taranor jonnyo. Or that NILI BONGA mane NIL BHUT taranor jonnyo.

  14. malancha 10 November 2015 at 9:18 PM #

    Pocket etc potka boma majud rakhte hobe. Badid pase asle duchardin peter kache fatate hobe. Fal britha jabena. Proven…


Leave a Reply