Letters in Reply to the Essay on Astrology at ‘icore Ekdin’, Dated 6 June 2010

৬ জুন আইকোর একদিন-এ একটি জ্যোতিষ বিরোধী রম্যরচনা প্রকাশিত হয়েছিল। রচনাটি আমাদের খুব ভালই লেগেছে। কিন্তূ রচনার একটি অংশে ভূল তথ্য ছিল। ভূল তথ্যটি যুক্তিবাদী সমিতি বিষয়ে। এই প্রসঙ্গে কিছু চিঠি ও Email আইকোর একদিন এ পাঠানো হয়। এর কোনোটিই আজ অবধি প্রকাশিত না হওয়ায় আমরা মুল রচনাটি এবং সঙ্গে দুটি নমুনা উত্তর প্রকাশ করলাম।

icore-akdin

৬ জুন ‘icore একদিন’ -এ অনির্বাণ মুখোপাধ্যায়-এর এই রম্যরচনার পরিপ্রেক্ষিতে নিচের চিঠিগুলি পাঠানো হয়েছিল।

——————————————————————————–


মাননীয় সম্পাদক সমীপেষু,
একদিন,
তারিখঃ ৮/৬/২০১০

গত ৬/৬/১০ তারিখে একদিন পত্রিকায় অনির্বান মুখোপাধ্যায়ের লেখা ‘ফাঁড়ায় ভরা আয়ুর রেখা…খাচ্ছি কিন্তু গিলছিনা’ পড়ে পাল্টা দুচার কথা না বললে বোধ হয় পুরোটাই বদ হজম হবার যোগাড়। লেখক তার অসাধারন লেখপটুতার মাধ্যমে জ্যোতিষি পেশাটিকে নিয়ে যার পর নাই ব্যঙ্গ করেছেন যা পড়তে আপাতদৃষ্টিতে বেশ সুখকর মনে হলেও আমার মনে হল পুরো লেখাটিই গিলছি কিন্তু খাচ্ছিনা। অবশ্য এখানে লেখককে একতরফা দায়ি করা যায় না, হয়তো শব্দ সংখ্যার সীমাবদ্ধতা অথবা জ্যোতিষ এবং এর বিরোধী আন্দোলন সম্বন্ধে জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা লেখকের কাছে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

যাই হোক বেশ কয়েকটি হোঁচট খাওয়া পরিচ্ছদ উল্লেখ করছি।“যুক্তিবাদী সমিতি তাদের যাত্রাপথের গোড়ায় জ্যোতিষীদের উৎখাত করবেন ভেবেছিলেন’’-লেখকের এই পঙতির সূত্রে জানাই যুক্তিবাদীরা এখনও জ্যোতিষিদের উৎখাত করেই চলেছে। কোনো বিরাম নেই। খোঁজ নিলে জানতে পারবেন যুক্তিবাদী সমিতি প্রতি মাসেই বেশ কয়েকটি করে জ্যোতিষি-তান্ত্রিক-অলৌকিক বাবাজী মাতাজী পাকড়াও করে। শুধুমাত্র কলকাতা শহরেই নয় মফস্বঃল এবং গ্রামে গঞ্জে সর্বত্র। যদিও দিনে দিনে লড়াই আরও শক্ত হয়েছে। দুদশক আগে যে লড়াই সীমাবদ্ধ ছিল জ্যোতিষি বনাম যুক্তিবাদীতে।তাই টপা টপ জ্যোতিষিদের বুজরুকি ধরা যেত। এখন সেটা জ্যোতিষি-কোটিপতি রত্নব্যবসায়ী-পুলিশ-মাস্তান-মিডিয়া বনাম যুক্তিবাদী তে পরিনত হয়েছে। তবুও আমরা লড়ছি এবং প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই জয়ী হচ্ছি।

বছরদশেক আগের জ্যোতিষিদের দেওয়া বিজ্ঞাপন আর এখনকার বিজ্ঞাপনের একটি ফারাক লক্ষ্য করবেন। সেসময় জ্যোতিষিরা তাবিজ-কবচ-আংটি দিয়ে রোগ সারানোর কথা ঢালাও প্রচার করত। আর এখন? গত কয়েক বছরে যুক্তিবাদী সমিতি ‘দ্য ড্রাগ অ্যান্ড ম্যাজিক রেমেডিজ’ আইনে বেশ কয়েকটি জ্যোতিষি তান্ত্রিককে কাবু করার পর ওরা আর বুক ফুলিয়ে রোগমুক্তির কথা বলে না, এমনকি লুকিয়ে চুরিয়েও না। যারা এরপরেও ভুল করে তারা ফাঁসে। এ তো যুক্তিবাদীদেরই জয়। কি বলেন অনির্বান বাবু? ২০০৫ সালে ভারতেরকস সবচেয়ে ধনী জ্যোতিষি সত্যানন্দের বুজরুকি ফাঁসের সময় থেকে যুক্তিবাদী সমিতি জ্যোতিষিদের বিরুদ্ধে বর্তমান আইনগুলিকে আরো কড়া করার প্রচেষ্টায় নামে। ভারতের বিখ্যাত আইনজীবিরা যুক্তিবাদীদের পাশে এসে দাঁড়ায়, যারই পরিনতিতে ২০০৯ সালের ১৯ মার্চ ড্রাগ অ্যান্ড কসমেটিক্স আইনটি আরও কড়া হয়। এটিও কিন্তু বড় লড়াই। বিজেপি সরকারের মন্ত্রী মুরলী মনোহর যোশী যখন জ্যোতিষকে বিজ্ঞান বিষয়ে পড়িয়ে এই অবিজ্ঞান শাস্ত্রটিতে কৌলীন্য আনতে সচেষ্ট তখন যুক্তিবাদী সমিতি যে শুধুমাত্র মুরলী মনোহরের ঘৃণ্য চক্রান্তই ব্যর্থ করে দিয়েছিল তাই নয়, জ্যোতিষি পেশাটি যে বেআইনি এবং এই পেশার সাথে যুক্ত কোনো ব্যাক্তি বৃত্তিকর দেওয়ার অধিকারী নন সেটা জনসমক্ষে এনেছিল। ফলে মুরলীর কথায় নাচতে যাওয়া অনেক যুবক যারা ভেবে ছিল জ্যোতিষচর্চাকে পেশা হিসেবে বেছে নেবে হাত গুটিয়ে নিয়েছিল। জেনে রাখুন, আজও কোনো জ্যোতিষি তার জ্যোতিষ পেশার জন্য কোনো বৃত্তিকর দিতে পারেননা।

“নিছক কথার মারপ্যাঁচে এদের কিছু করতে পারবেননা”-এ প্রসঙ্গে জানাই, যুক্তিবাদীরা কথার মারপ্যাঁচে কখনই জেতার চেষ্টা করেনা। যুক্তিবাদীরা কেউ তর্কবাগীশ নয়। তারা যে কোনো বিষয়কে ভালোভাবে অনুধাবন করে যুক্তি দিয়ে বিচার করে তবেই সিদ্ধান্ত নেয়। এখানে অযথা তর্কের কোনো স্থান নেই। কেউ বুঝতে না চাইলে কখনোই জোর করে বোঝতে যায়না।

লেখক জ্যোতিষিদের বিরুদ্ধে যুক্তিবাদী সমিতির অসাড়তা প্রমান করতে লিখেছেন, “হারবার্ট উপন্যাসে দেখা যায় যুক্তিবাদীরা পরলোক বিশেষজ্ঞ হারবার্ট সরকার কে কিভাবে যুক্তির জালে ফাঁসায়”-মাননীয় লেখক মশাই এটা বুঝলেননা কেন ‘হারবার্ট’ একটি উপন্যাস। ঔপন্যাসিক তার উপন্যাসে কোনো চরিত্রকে কিভাবে উপস্থাপিত করবেন সম্পূর্ণ ভাবে তার মর্জির উপর নির্ভর করে। যারা যুক্তিবাদী সমিতির কাজকর্মের ধারার সাথে সামান্যতমও পরিচিত কেউই বলেননা হারবার্ট সিনেমার যুক্তিবাদীদের সাথে বাস্তবের যুক্তিবাদী সমিতির সামান্যতমও মিল আছে।

লেখক পূনশ্চ দিয়ে জানতে চেয়েছেন, জ্যোতিষি তান্ত্রিকদের বিজ্ঞাপনে গভঃ রেজিঃ লেখা থাকে। সরকার কি করে এরকম পেশাকে রেজিষ্ট্রেশন দেয়। না দেয় না অনির্বান বাবু। জ্যোতিষি করার জন্য আমাদের দেশের সরকার কোনো স্বীকৃতি দেয় না। ওরা সোসাইটি রেজিষ্ট্রেশন আইন অনুযায়ী রেজিষ্ট্রেশন করায় এবং আপনি ভালোভাবেই জানেন এভাবে রেজিষ্ট্রিকৃত সংস্থা কখনই কোনো পেশার রেজিষ্ট্রেশন দেওয়ার অধিকারী হতে পারেনা। অর্থাৎ কি দাঁড়াল? গভঃ রেজিঃ বলে যা লেখা থাকে তার পুরোটিই ভুয়ো। কোনও জ্যোতিষ সংস্থার রেজিষ্ট্রেশন নম্বরের খোঁজ নিয়ে দেখুন এই উত্তর মিলবে।

জ্যোতিষিদের বাড়বাড়ন্ত প্রসঙ্গে জানাই জ্যোতিষ তান্ত্রিকদের মত প্রতারকদের বিরুদ্ধে আমরা যতবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি তার খুব সামান্য ক্ষেত্রেই প্রশাসনের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। এর কারন এই পোড়া দেশের শাসকগোষ্ঠী চান না জ্যোতিষিদের সাজা হোক, জ্যোতিষের মত একটি ধান্ধাবাজীদের পেশা নির্মুল হোক। বরং তারা চান যে ভাগ্য, পূর্বজন্ম, কর্মফল প্রভৃতির ওপর জনসাধারনের প্রবল আস্থা থাকুক। কারন শাসকেরা ভালই জানেন, কর্মফলে বিশ্বাস, ভাগ্যনির্ভরতা, গুরুনির্ভরতা ইত্যাদি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আত্মবিশ্বাস হ্রাস পেতে থাকে। আত্মবিশ্বাসহীন মানুষ আত্মনিবেদন এবং আত্মসমর্পন করার মধ্য দিয়ে দুঃখ ও বঞ্চনাকে ভুলতে জানে কিন্তু লড়াকু হতে জানেনা। যে মানুষ লড়াকু নয় তাকে আবার ভয় কি?

ধন্যবাদ সহ
বিপ্লব দাস
সম্পাদক
ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি
৭২/৮ দেবিনিবাস রোড, কলকাতা-৭০০০৭৪

——————————————————————————–

৬ জুন ২০১০ তারিখের ‘icore একদিন’ এ ‘ফাঁড়ায় ভরা আয়ুর রেখা…’ শীর্ষক প্রবন্ধে অনির্বাণ মুখোপাধ্যায় লিখেছেন, “যুক্তিবাদী সমিতি তাঁদের যাত্রাপথের গোড়ায় জ্যোতিষীদের উৎখাত করবেন মনে করেছিলেন, কিন্তু এই সামান্য যুক্তিটুকু তাঁদের মাথায় খেলেনি যে নিছক কথার মারপ্যাঁচে তাঁরা এঁদের কিস্যু করতে পারবেন না।”

যুক্তিবাদী সমিতি কি কি করেছে দেখি আসুন।

(১) জ্যোতিষীদের প্রতি যুক্তিবাদী সমিতির ২৫ লক্ষ টাকার চ্যালেঞ্জ আছে। প্রত্যেক সংবাদমাধ্যম এবং ওয়াকিবহাল ব্যক্তি জানেন, কোন জ্যোতিষী-ই এই চ্যালেঞ্জ জিততে পারেনি।

(২) বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রমে জ্যোতিষশাস্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে পিছু হঠতে বাধ্য করেছে যুক্তিবাদী সমিতি।

(৩) যুক্তিবাদী সমিতির আন্দোলনের ফলস্বরূপ বেআইনি ‘জ্যোতিষ পেশা’র প্রফেশন ট্যাক্স বাতিল হয়েছে।

(৪) মার্চ, ২০০৫। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক-এর ক্যামেরার সামনে পশ্চিমবঙ্গের ধনীতম জ্যোতিষী ‘আচার্য্য সত্যানন্দ’-এর প্রতারনা হাতে-নাতে ফাঁস করেন যুক্তিবাদী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রবীর ঘোষ। তাই C.T.V.N. চ্যানেলের অনুষ্ঠানে প্রবীর ঘোষকে খুনের হুমকি দিয়েছিল সত্যানন্দ। যুক্তিবাদী সমিতির আন্দোলনের ফলে বিধানসভাতে দলমত নির্বিশেষে বহু বিধায়ক সত্যানন্দ ও জ্যোতিষীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। বহু মিডিয়া অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এ সংবাদ প্রকাশ করে। সত্যানন্দ গ্রেপ্তার হল। জ্যোতিষ চ্যানেলগুলির রাশ টানার দীর্ঘদিনের দাবি সার্থক রূপ পেল।

(৫) যুক্তিবাদী সমিতির দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নিয়ে ‘দ্য ড্রাগস অ্যান্ড ম্যাজিক রেমেডিস (অবজেকশনেবল অ্যাডভারটাইজমেন্টস) অ্যাক্ট, ১৯৫৪’তে সংযোজন এনে লোকঠকানো বিজ্ঞাপনকেই নিষিদ্ধ করে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রক ১৯ মার্চ, ২০০৯। সমস্ত পত্রিকায় নোটিশ জারি করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর।

(৬) প্রতি লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরে দেশের বহু জ্যোতিষী জানায় তাদের ‘নির্ভুল’ গণনার কথা। এই বুজরুকি বন্ধ করার জন্য ১১ মে, ২০০৯ তে যুক্তিবাদী সমিতির ওয়েবসাইট www.srai.org এবং www.thefreethinker.tk তে চ্যালেঞ্জ জানানো হয় জ্যোতিষীদের। লোকসভা নির্বাচনের ফল আগাম জানাতে হবে। সঠিক হলে ২৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। ভেঙে দেওয়া হবে যুক্তিবাদী সমিতি। পশ্চিমবঙ্গ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের বহু সংবাদমাধ্যম বিশাল গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করল এই সংবাদ। ১৪ মে, ২০০৯ তারিখে একদিন-এও প্রকাশ হয়েছিল সংবাদটি। জেমস র‌্যান্ডি সহ দেশ-বিদেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ই-মেল করে যুক্তিবাদী সমিতিকে উষ্ণ অভিনন্দন জানালেন। জেমস র‌্যান্ডি তাঁর ওয়েবসাইটে (www.randi.org) অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে চ্যালেঞ্জটি হুবহু প্রকাশ করলেন। বহু জ্যোতিষী নির্বাচনের ফল আগাম জানাল। তা প্রকাশও হল যুক্তিবাদী সমিতির ওয়েবসাইটে। নির্বাচনের ফল ঘোষণা হতে দেখা গেল জ্যোতিষীদের ‘ভবিষ্যতবানী’র সঙ্গে আকাশ-পাতালের পার্থক্য।

যুক্তিবাদী সমিতি জানতে চেয়েছিল মনমোহন সিং কত ভোটে হারবেন বা জিতবেন? বহু জ্যোতিষী নানারকম সংখ্যা জানিয়েছিল। তারা ‘গণনা’ করেও বুঝতে পারেনি, মনমোহন সিং লোকসভা নির্বাচনে দাঁড়াননি। রাজ্যসভাতে নির্বাচিত হন।

লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর কোন জ্যোতিষী আর ‘নির্ভুল’ গণনার কথা জানানোর হিম্মত দেখায়নি।

(৭) বাঁকুড়া রেল-ষ্টেশন চত্বরে জ্যোতিষী শ্রীভৃগু (অদ্বিতীয়)-র বিশাল বিজ্ঞাপন সম্বলিত হোর্ডিং ছিল। যুক্তিবাদী সমিতির বাঁকুড়া শাখার সম্পাদক বিপ্লব দাস রেল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানান যে, জ্যোতিষ একটি বেআইনি পেশা। সরকারি জায়গায় কিভাবে বেআইনি পেশা-র বিজ্ঞাপন থাকতে পারে? এ ব্যাপারে জনমতও গড়ে তোলে যুক্তিবাদী সমিতির বাঁকুড়া শাখা। ফলস্বরূপ গত এপ্রিল মাসে শ্রীভৃগু (অদ্বিতীয়)-র হোর্ডিং খুলে ফেলে রেল কর্তৃপক্ষ।

এর পরেও কি প্রবন্ধকারের সঙ্গে একমত হওয়া যায়?

-অনিন্দ্যসুন্দর,
সদস্য, এক্সিকিউটিভ কমিটি, যুক্তিবাদী সমিতি
৭২/৮ দেবীনিবাস রোড, কলকাতা ৭০০ ০৭৪।
৬ জুন, ২০১০

If you found this article interesting, please copy the code below to your website.
x 
Share

4 Responses to “Letters in Reply to the Essay on Astrology at ‘icore Ekdin’, Dated 6 June 2010”

  1. GABLU 23 June 2010 at 11:09 AM #

    We are with SRAI.

    Howrah Branch

  2. ajay 3 July 2010 at 8:44 PM #

    uporer picture ta chhara r kono lekha dekha jachhe na. sudhu dari dari dag dekha jachhe. please take neccessary step.

  3. Lawanda 2 July 2011 at 1:45 PM #

    Yup, that’ll do it. You have my aprpcieation.

  4. ngdzey 3 July 2011 at 1:11 PM #

    SA8AB6 bmuocmsclkrj


Leave a Reply