NRC তালিকা আইনসম্মত হলেও মানবিক ও যুক্তিসম্মত নয় – মধুসূদন মাহাত

আসামে এন আর সি (National Register Of Citizens)-র শেষ খসড়া তালিকা প্রকাশ হতেই দেশ তোলপাড়। কেউ কেউ গৃহযুদ্ধের আশংকা প্রকাশ করেছেন। দেশজুড়ে অস্থিরতাও প্রকাশ পাচ্ছে। যেহেতু NRC তালিকায় যারা স্থান পায়নি, তার বেশিরভাগই বাঙালি মুসলিম হওয়ায় মমতা ব্যানার্জি বাঙালি ও মুসলিম আবেগকে ভোট ব্যাঙ্ক হিসেবে কাজে লাগাবার জন্য মরিয়া ', অন্যদিকে বি জে পি NRC ইস্যুকে কেন্দ্র করে অন্ধ মুসলিম বিরোধিতাকে দেশব্যাপী কাজে লাগাবার চেষ্টা করছে। দেশের অন্য সমস্যাগুলিকে বাইপাস করে, শুধুমাত্র NRC ইস্যুকে দেশজুড়ে কাজে লাগিয়ে ভোটের মেরুকরণ করার প্রয়াস চালাচ্ছেন। তারা এমন ভাব দেখাচ্ছেন, যেন এখনি তালিকার বাইরের লোকদের তেড়ে দেশ থেকে বহিস্কার করবেন। দাবী করছেন তারাই হিন্দুদের তথা দেশবাসীর একমাত্র সুরক্ষার কথা ভাবছেন। ফলত ভোট ব্যাঙ্কের যাঁতাকলে মানবিক ও যুক্তিসম্মত পথ অধরাই রইল।
একটা 47 বছর আগের পুরনো আইন ও চুক্তি এতবছর পরে বাস্তবায়ন কখনোই যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না। দরকার ছিল আইনের কিছু সংশোধন। প্রায় 50 বছর একজন মানুষ দেশবাসী হিসেবে পরিচিত হওয়ার পর, দেশছাড়া হবে ভাবাই যায় না। এদের বংশধররা এখানে জন্মে, অনেকেই শিক্ষিত হয়ে প্রতিষ্ঠিতও হয়েছেন, পেয়েছেন ভোটার কার্ড - আধার কার্ডও। সত্যিই পূর্ববর্তী রাজনৈতিক নেতারা অনুপ্রবেশ না রুখে জঘন্য অপরাধ করেছেন ঠিকই, কিন্তু তারজন্য এত বিশালসংখ্যক মানুষকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলা মোটেই মানবিক ও যুক্তিসম্মত নয়। অতীতকে দোষারোপ করা যায়, কিন্তু অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা অনুপ্রবেশ বন্ধ করার জন্য সঠিক কোন ব্যবস্থা নিতে পেরেছি? এখনও বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ ঘটেই চলেছে। অনুপ্রবেশ ও চোরা পাচার রুখতে প্রয়োজন ছিল দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন করা। কিন্তু তারজন্য আমরা কী সঠিকভাবে লোকপাল আইন প্রণয়ণ ও কার্যকরী করতে পেরেছি? যদি, না পারি তবে অনুপ্রবেশ বা NRC তালিকা নিয়ে নাচানাচি মোটেই শোভা পায় না। যদিও NRC তালিকা করা ও তা কার্যকরী করা আসামবাসীদের বহু পুরনো দাবী ছিল। কারণ, আসামের ভূমিপুত্ররা এরফলে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। যাইহোক, সমস্যাটা শুধু আসামের নয়, সমস্যাটা সমগ্র দেশের। কাজেই এই সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরী। বাংলাদেশ এই পুরো ব্যাপারটা মেনে নিবে বলে মনে হয় না, কারণ এতসংখ্যক লোকের পূণর্বাসন দেওয়া মোটেই ছেলেখেলা নয়। তাই দুই দেশকেই যথেষ্ট মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে ব্যাপারটা দেখতে হবে। এত সংখ্যক মানুষের রাষ্ট্রহীন হওয়াটা মোটেই দু'দেশের পক্ষেই সুখকর নয়। রাষ্ট্রসংঘও এত সংখ্যক লোকের রাষ্ট্রহীন হওয়া দেখে চুপ থাকবে বলে মনে হয় না। কাজেই সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরই নিরপেক্ষভাবে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপারটা ভাবা উচিত।
If you found this article interesting, please copy the code below to your website.
x 
Share

Leave a Reply