২৫ বৈশাখ,রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী পালন ও কিছু কথা।

আজ সবাই এত রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথ করছে কেন রে? জমিদারের বাচ্চার কোন কাজ ছিলনা, তাই "দাদু" শিলাইদহে নদীবক্ষে বজরার উপর বসে ফষ্টি নষ্টি করতে করতে কাব্যি লিখেছেন। আমাদের মত কর্পোরেট অফিসে কাজ করতে হলে দেখতাম কত কাব্যি বেরোয়।

কি তাইতো বন্ধুরা? রকে বসে "বৌদিবাজির" আড্ডা মারতে মারতে এটাই বলেন তো?

আমার জ্ঞান আবার এমনিতেই কম। তাই আবার ঐ জমিদারের বাচ্চারই শরণাপন্ন হলাম। আরে মশাই সেই লোকটা, যে বিদেশে অর্থাভাবে বাল্যবন্ধু জগদীশচন্দ্রের গবেষণা বন্ধ হয়ে গেলে ধনীদের থেকে সাহায্য চেয়ে নিজে ঋণগ্রস্ত হয়ে টাকা পাঠান।

প্রথম জীবনে তার ধারণা ছিল, ধনীরা দান করবে ফলে দারিদ্র দূর হবে। রাশিয়াতে মার্কসবাদের সাথে পরিচিত হওয়ার পর তার ভুল ভেঙে যায়। তিনি বুঝতে পারেন অসাম্য ও শোষণই হল দারিদ্রের মূল কারণ। তাই দান করে শুধু ভিখারি তৈরি সম্ভব। প্রকৃত উন্নতির পথ হল আত্মনির্ভর হওয়া।

তাই বাংলার চাষীদের জন্য নিজের ছেলে রথীন্দ্রনাথ আর জামাই নগেন্দ্রনাথকে স্ত্রীর গয়না বেচে বিদেশে কৃষিবিদ্যা পড়তে পাঠান। ১২ কার্তিক, ১৩১৪ সালে নগেন্দ্রনাথকে এক চিঠিতে লেখেন, "তোমরা দুর্ভিক্ষপীড়িত প্রজার অন্নগ্রাসের অংশ নিয়ে বিদেশে কৃষি শিখতে গেছ-ফিরে এসে এই হতভাগাদের অন্নগ্রাস কিছু পরিমাণও যদি বাড়িয়ে দিতে পার তাহলে মনে সান্ত্বনা পাব। মনে রেখো জমিদারের টাকা চাষির টাকা এবং এই চাষিরাই তোমাদের শিক্ষার ব্যয়ভার আধপেটা খেয়ে এবং না খেয়ে বহন করছে। এদের ঋণ সম্পূর্ণ শোধ করার দায় তোমাদের উপর রইল। নিজেদের সাংসারিক উন্নতির চেয়েও এইটেই তোমাদের প্রথম কর্তব্য হবে।" 'বুর্জোয়া জমিদারের' মনোভাবই বটে।

তাদের বিদেশ থেকে পাঠান বই, জার্নাল পড়ে বাংলার মাটিতে তিনিই প্রথম বীজবিহীন ফলের চাষ, অর্থকরী ফলের চাষ করেন। চাষীদের মহাজনদের থেকে বাঁচাতে পতিসরে কৃষিব্যাঙ্ক গড়ে তোলেন। এক ফসলি জমিতে সারাবছর চাষ না থাকায়, জাপান থেকে বই এনে ছাতা তৈরির মত বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করেন। তারই খয়রা এস্টেটের টাকায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম কৃষিবিদ্যা পড়ান শুরু হয়।

১৯১২ সালে রায়পুরের নরেন্দ্রনাথ সিংহের থেকে ১০,০০০ টাকায় ভাঙা কুঠিবাড়ি কিনে নেন। ১৯২২ এর ৬ ফেব্রুয়ারি হতদরিদ্র সাঁওতাল আর নিম্নবর্গের মানুষের জন্য কাজা শুরু করল, 'সুরুল কৃষি বিদ্যালয়'। পরে তা শ্রীনিকেতন নামে পরিচিত হয়। কৃষিকাজ ছাড়াও কাঠের কাজ, চামড়ার কাজ, বই বাঁধানো এবং আরও অনেক বিকল্প জীবিকা শেখান শুরু হল।

১৯২৯ এ ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে, আমেরিকা থেকে শ্রীনিকেতন আসেন ডঃ টিমবারস। তার নেতৃত্বে গ্রামে গ্রামে অভিযান শুরু হল।

১৯৩০ সালে বর্ষার জল ধরে রেখে, পুকুর সংস্কার করে উন্নত জলসেচের প্রক্রিয়া শুরু হল। বীরভূমে এভাবে অল্পদিনেই চাষিদেরই সম্মিলিত প্রচেষ্টাতে গড়ে উঠল ৪৮৯ টি সেচ-সমবায় সমিতি।

এরকম প্রচেষ্টার কথা বলে শেষ করা যাবেনা। তথাকথিত রাজাসুলভ মনোভাব নিয়ে দান নয়। বরং, শোষিত মানুষের নিজের প্রচেষ্টাতে আত্মোন্নতিই ছিল ঐ 'বুর্জোয়া' জমিদারের মূল লক্ষ্য।

অথচ, আমরা কিছুমাত্র না জেনেই সবজান্তার ভান করে বলে ফেলি, "রবি দাদু শিলাইদহে নদীবক্ষে বজরার উপর বসে কাব্যি লিখেছেন।" আরে তাও যদি তার মত একটা 'কাব্যি' লিখতে পারতেন। আপনাকে একমাস ছুটি দিয়ে বাড়ি বসিয়ে রাখলেও আপনি "তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম" বা "কেটেছ একেলা বিরহের বেলা" লিখতে পারবেন তো???

-লেখা: মনীষ রায়চৌধুরী,সাধারণ সম্পাদক।

25 বৈশাখ , রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী পালন, সিন্দরী চাষরোড, পুরুলিয়া,২০১৮
 25 বৈশাখ , রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী পালন, সিন্দরী চাষরোড, পুরুলিয়া।

25 বৈশাখ , রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী পালন, সিন্দরী চাষরোড, পুরুলিয়া।

 25 বৈশাখ , রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী পালন, সিন্দরী চাষরোড, পুরুলিয়া।

25 বৈশাখ , রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী পালন, সিন্দরী চাষরোড, পুরুলিয়া।

Exhibition on Rabindranath Tagore exhibit of photographs paintings poems on exhibit at Max Miller Bhavn CMH road Indiranagar 1st stage A visionary . File photos. in Bangalore on Monday. credit google

If you found this article interesting, please copy the code below to your website.
x 
Share

Leave a Reply