UAPA : Violates the Indian Constitution and Human Rights

ইউ এ পি এ : সংবিধান ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী এক আইন
অনিন্দ্যসুন্দর

আজ থেকে ঠিক ৩৪ বছর আগে এই দিনে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল। সেদিনের কালা আইন ছিল এম আই এস এ (MISA), ই এস এম এ (ESMA) ইত্যাদি। আজ যেমন ইউ এ পি এ (UAPA)। কী লজ্জা!

অভিযোগকারীকে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে হবে। এমনটাই ভারতের সংবিধানের ঘোষিত নির্দেশ। যে কোন উন্নত ও সভ্য রাষ্ট্র এই নীতিই অনুসরন করে। কিন্তু, সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্রগুলি অনেক্ষেত্রেই এই নীতি মানে না। বিনা প্রমাণেই যাতে বিচার সম্পন্ন করে ফেলা যায়, সে উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা। বলা বাহুল্য, এই ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের নীতি-বহির্ভূত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী যে কোন কাজকে আইনি ছাপ দেওয়া যায় খুব সহজেই। এই সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্রগুলির অন্যতম আমাদের দেশ ভারত। ভারতে এমন কিছু আইন রয়েছে (কালা আইন), যেসব আইনে মামলা দায়ের হলে অভিযুক্তকেই প্রমাণ করতে হয় যে, সে অপরাধী নয়। The Unlawful Activities (Prevention) Act, 1967 (UAPA) এমনই একটি কালা আইন। মুম্বই বিস্ফোরণের পর তড়িঘড়ি করে সংশোধনী বিল পাশ করিয়ে যে আইনকে আরও কঠোর করা হল।

উল্লেখ্য যে, অভিযুক্তের পক্ষে প্রমাণ করা (সে অপরাধী নয়) তত্ত্বগতভাবেই অসম্ভব। তাই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করার দায়িত্ব অভিযোগকারীর ওপরই বর্তায়।

কিন্তু প্রশ্ন হল, সংবিধানের নির্দেশকে অমান্য করে আইন তৈরী হয় কি করে? উত্তরটা খুবই সহজ। দুর্নীতিতে বিশ্বের প্রথমসারীতে অবস্থান করা যে দেশে শাহবুদ্দিনের মতো জঘন্য অপরাধী অনায়াসেই আইনপ্রণেতা বনে যেতে পারে, সে দেশে সংবিধান লঙ্ঘনকারী আইন তৈরী হওয়া অসম্ভব কি!

নির্বিচারে দমন-পীড়ন-সন্ত্রাস সংঘটিত করার উদ্দেশ্যে ভারতের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী যেভাবে সংবিধান লঙ্ঘনের খেলায় মেতেছেন, তা দেখলে ব্রীটিশ শাসকরাও লজ্জা পেতেন। কেননা, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করার দায়িত্ব পালন করতেন ব্রীটিশ শাসকরাই।

প্রমাণের অভাবে অভিযুক্ত বেকসুর খালাস পেয়েছেন – এমন সংবাদ হামেশাই প্রকাশিত হয় । এমনকি, দীর্ঘ বছর বিনা বিচারে কারাবাসের পরও এমনটা ঘটা নতুন কিছু নয়।  ইউ এ পি এ সংশোধন করে (অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করার দায়িত্ব কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে) সরকার নিশ্চিন্ত হল, এমন ঘটনা আর ঘটবে না।

কিন্তু, সাধারণ মানুষ এই স্বেচ্ছাচার মেনে নেবেন তো?

If you found this article interesting, please copy the code below to your website.
x 
  • Share/Bookmark

Related posts:

  1. 10 December: International Human Rights Day
  2. Message on International Human Rights Day 2008
  3. Stop GREEN HUNT, withdraw UAPA

Leave a Reply