এন ডি টিভি ইমাজিন – এর ‘ইমাজিনেশন’ বা কল্পনার দৌড় দেখে সত্যি চমকালাম

Program on NDTV Imagine: ‘RAAZ PICHHLE JANAM KA’


‘রাজ পিছলে জনম কা’ নাম দিয়ে পুর্বজন্ম নিয়ে একটা বেশ মোটা দাগের সিরিয়াল শুরু হতেই এস.এম.এস. এর ঝড়। আপনারা কী করছেন? প্রতিবাদ করুন। দেখলাম মোটামুটি যা বলতে চায় তা হল – পূর্ব জন্ম আছে—আর সম্মোহন করে সব জেনে ফেলা যায়। তবে যেভাবে তৈরি করা হয়েছে তাতে কেউ এতে প্রভাবিত হওয়ার সামান্যতম সম্ভাবনাও নেই। খুব সাজগোজ করা এক মহিলা সম্মোহন করছেন—যে সম্মোহিত হচ্ছে তার অভিনয় এত কাঁচা যে পিটপিট করা চোখে ঘুম বা ঘুম-ঘুম ভাবের লেশমাত্র নেই। আর তারপর যা হচ্ছে, পুরো নাটক! কাল্পনিক ঘটনা রিক্রিয়েট করে সিনেমার মত করে দেখান হচ্ছে। যেমন আগের জন্মে প্লেন-ক্র্যাশে মারা গেছেন –তো প্লেন ক্র্যাশের একটা সীন দেখানো হল। সাধারন বুদ্ধি-সম্পন্ন কোনো মানুষ এই অনুষ্ঠান দেখে পূর্বজন্মে বিশ্বাসী হয়ে উঠবেন বলে মনে হয়না। যারা তেলগি-র নার্কো টেস্ট এর ছবি টিভি তে দেখেছি, তারা জানি সম্মোহন ঘুম কেমন হয়। সত্যি সে একটা আধো ঘুম অবস্থায় চলে যায়; তখন তাকে জাগিয়ে জাগিয়ে প্রশ্ন করা হলে সে মনে যা আসে বলে যায়। তার মধ্যে সত্যি থাকে, কল্পনাও থাকতে পারে। নার্কো টেস্ট এ ওষুধের সাহায্যে এই অবস্থাটা আনা হয়। আর সম্মোহনে সাজেশান দিয়ে এটা করা যায়। সিরিয়াল টা দেখে মনে হলো কল্পনা আর গুল মিশিয়ে সেই মানুষটা যদি কিছু বলেও – তার সঙ্গেই বা পূর্ব জন্মের কী সম্পর্ক? আমরা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্নও তো দেখি। আমার এক বন্ধু তো স্বপ্নে প্লেন চালায়, ফুটবল খেলে, বাঘের সঙ্গে লড়াই করে – সত্যি! ঘুমের মধ্যে সে হাত পা ছোঁড়ে ও রীতিমত কথা-টথাও বলে! আমি তাহলে ভাবতে পারি সে আগের জন্মে গত শতাব্দীতে সুন্দরবনে বাঘের সঙ্গে লড়াই করেছে। যাই হোক, এত সহজে মানুষ বোকা বনে না। আমার বাড়িতে কাজ করে যে মেয়েটি, কাকলি, সে খুব উৎসাহ নিয়ে দেখে বেশ ধন্দে ছিল। আমার সঙ্গে আলোচনা করে বলল—‘সত্যি তো – মরে গেলে তো চিন্তাই থাকবে না। কী দিয়ে ভাববে?’ তাকে বোঝালাম – স্মৃতি তো থাকে মস্তিষ্ক কোষে, আর এটা মরার পর আর থাকেনা। কী করে থাকবে? পুড়ে, পচে শেষ হয়ে যায়। আমরা যা ভাবি, সব এই জীবনেরই চিন্তা, ভাবনা, কল্পনা, সুপ্ত ইচ্ছা, শখ – এই সব। জেগে, ঘুমিয়ে, স্বপ্নে, সম্মোহনের আধা ঘুমে – যা যা ভাবি, দেখি সব এই জীবনেরই। ‘আত্মা’ বলে একটা কিছু শূন্যে ভেসে বেড়ায়—আমাদের স্মৃতিটাকে সঙ্গে নিয়ে – এটা কল্পনাই। এর কোনো সত্যতা প্রমানিত হয়নি, বরং অসত্যতাই যুক্তিসঙ্গত। আমরা জন্মাবার আগেও কোথাও ছিলাম না, আর পরেও কোথাও থাকব না। তাই তো জীবন টা এত সুন্দর, এত মূল্যবান। থাকবে শুধু আমাদের কাজকর্মের প্রভাব, আমাদের অবদান। প্রিয়জনের মনে আমাদের স্মৃতি। কাকলি রান্না করতে করতে বলে উঠলো – “এটা কী অন্যায় কথা বল—আগের জন্মে একজন অপরাধ করেছিল, আর তাই এ জন্মে তার ভোগান্তি হচ্ছে, এটা কাউকে বলাও তো উচিৎ না। সে কী বা করতে পারে? এরকম বিশ্বাস লোকের মনে ঢোকানোও তো ঠিক না, কি বল?” আমি নিশ্চিন্ত হলাম। যাক, ক্লাশ এইট পড়া কাকলি যখন বুঝেছে, তখন আর চিন্তা নেই। [----- পাঠক কে অনুরোধ এখনো মনে কিছুমাত্র সন্দেহ থাকলে প্রবীর ঘোষের “অলৌকিক নয়, লৌকিক’ বইটার ৪র্থ খন্ডটা পড়ে ফেলুন। আর এরকম অনুষ্ঠানের প্রতিবাদ করুন। ফোনে, চিঠি দিয়ে জানান আপনার মতামত। অনেক প্রতিবাদ এলে বন্ধ হবে এইসব জঘন্য, ক্ষতিকর সময়ের অপচয়।]



10 views

SRAI

The Science and Rationalists' Association of India (Bengali: ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি, Bharatiya Bigyan O Yuktibadi Samiti) is a rationalist group based in Kolkata, India.

Reg.-S/63498 of 1989-90

Get Monthly Updates

© 2020 All rights reserve by www.srai.org