যৌন-স্বাধীনতা না চূড়ান্ত অজাচার???

প্রবীর ঘোষ

গত ১১-ই ডিসেম্বর, ২০১৩, ভারতের শীর্ষ আদালত জানালো, সমকামিতা বা সম-লিঙ্গ প্রেম অসাংবিধানিক ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আদালত এই রায় দিলেন ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা ৩৭৭ অনুযায়ী।

 ঠিক তার পর দিন থেকেই, দেশের ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার একটা বিরাট অংশ সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে হাহাকার করে উঠলো। এই আস্ফালনে সামিল করা হলো, বলিউড থেকে টলিউডের বিভিন্ন সেলেব্রিটিদের। দুর্নীতিতে ডুবে থাকা কেন্দ্রীয় সরকারের ‘মহামাতা’ শ্রীমতী সনিয়া এবং তাঁর আস্তাবলের দুই ‘নন্দী-ভৃঙ্গী’ জানালেন যে সরকার এই রায়ের বিপক্ষে, কারণ, এটা নাকি ব্যক্তিস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ!!! ওয়াহ! ক্যা বাত হ্যায়! ভারতে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী সমস্ত আইনের পক্ষে চিকন গলা তোলা এই সব সন্ত্রাসবাদের বাবা-মায়েরা উতলা হচ্ছেন স্বাধীনতা, গণতন্ত্র নিয়ে!

 আমরা এটাও লক্ষ রাখছি যে সমকামিতার পক্ষ নিয়ে বক্তব্য রাখছেন কিছু রাজনৈতিক দল, কারণ, শেষমেশ ‘সমকামী’ রাও তো তাদের কাছে এক ‘ভোট-ব্যাঙ্ক’।

 এই বিষয়ে আমরাও বহু প্রশ্নের সম্মুখীন। কারণ, আমাদের অবস্থান এই তৈরি করা হুজুগের বিরুদ্ধে। হ্যাঁ, আমরা বিজ্ঞানের, প্রগতির, স্বাধীনতার, যুক্তির এবং সাম্যের পক্ষে, এবং তাই দ্বিধাহীন ভাবে কোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছি। অনেকেই আমাদের এই অবস্থানে ক্ষুব্ধ হয়েছেন, বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, এই হঠাৎ গজিয়ে ওঠা হুজুগের স্রোত-এর উল্টোদিকে সাঁতার কাটতে দেখে।

 বিভিন্ন গণমাধমের খবর পড়ে-শুনে মনে হচ্ছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা কে যারা ধিক্কার জানাচ্ছেন, তাদের প্রতিবাদের মুল সুর হলো যে এটা কোনও ব্যক্তির নিজের পছন্দ মতো যৌন-সঙ্গী বেছে নেবার ‘মৌলিক অধিকার’-কে লঙ্ঘন করে। অর্থাৎ কিনা, এই রায় যৌন-স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।

 তাহলে, প্রথমে আমরা মৌলিক অধিকার দিয়ে শুরু করি। ভারতীয় সংবিধানের তৃতীয় খণ্ডে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার গুলো লেখা আছে। এই অধিকার গুলোকে ৬ ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে, যেমন :-

 ১। সাম্যের অধিকার

২। স্বাধীনতার অধিকার

৩। শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার

৪। ধর্মীয় অধিকার

৫। সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক অধিকার

৬। শাসন-তান্ত্রিক প্রতিবিধানের অধিকার

 সুতরাং, ‘যৌন-স্বাধীনতা’ বলে যেটা প্রচার করা হচ্ছে, সেরকম কিছুই আমাদের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে না।

 আচ্ছা, নাই বা থাকলো, আসুন দেখি আমরা যুক্তির চোখে যৌন-স্বাধীনতা বলতে কি বুঝি। আমরা যৌন-স্বাধীনতা বলতে মনে করি প্রাপ্ত-বয়স্ক নারী-পুরুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, বন্ধুত্ব, মতাদর্শ-গত মিল ইত্যাদির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এক প্রেমময় মানসিক/ শারীরিক সম্পর্ক। এই স্বাধীনতায় শোষণ নেই, কোনও বিনিময় মূল্য নেই। নেই কোনো অজাচার।

 যারা চীৎকার করে ‘পারস্পরিক সম্মতি’-তে গড়ে ওঠা সমস্ত যৌনসম্পর্ক-কেই স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে স্বীকৃতি দিতে চাইছেন, তাদের কাছে প্রশ্ন-আপনারা নিশ্চয়ই পিতা-কন্যা, মাতা-পুত্র, ভাই-বোন ইত্যাদির মধ্যে পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা যৌন-সম্পর্ককেও উদাত্ত কণ্ঠে স্বাগত জানাবেন। স্বীকৃতি দেবেন যৌন-ব্যবসাকেও। যদি আপনাদের পরিবারের কেউ বা নিকটজন এই ব্যাবসায় আসতে চায়, নিশ্চয়ই উচ্ছ্বসিত বোধ করবেন। যদি বলেন ‘না’, তবে আপনাদের ‘যুক্তি’-র জালে নিজেরাই জড়িয়ে যাবেন, কারণ, এখানেও আছে যৌন-সঙ্গী বেছে নেবার ( আপনাদেরই ভাষায় ) অবাধ স্বাধীনতা ।

 এবার আসি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায়, যা নিয়ে এত হই-চই। এই ধারা অপ্রাকৃতিক অপরাধ সম্পর্কিত। কি বলা আছে সেখানে? যা আছে, অবিকৃতভাবে এখানে তুলে দিলাম-“ যদি কেউ স্বেচ্ছাকৃত ভাবে প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে কোনো পুরুষ, স্ত্রী বা পশুর সাথে যৌন সংসর্গ করে-তবে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা দশ বছর অবধি সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড হবে, এবং সে অর্থদণ্ড দিতেও দায়ী থাকবে।

এটা গ্রেপ্তার যোগ্য ও জামিন অযোগ্য অপরাধ।

ব্যাখ্যা-এই ধারায় বলা অপরাধের জন্য যৌন সংসর্গে লিঙ্গ প্রবিষ্ট হলেই যথেষ্ট হবে।“

 যারা এই ধারা বাতিলের দাবী নিয়ে, যৌন-স্বাধীনতার ধ্বজা ধরে গলা ফাটাচ্ছেন, তাদের কাছে বিনীত ভাবে জানতে চাই- কোনো সমকামী ‘দম্পতি’-র মধ্যে যৌন সংসর্গ কিভাবে সম্ভব, যা আপনাদের মতে প্রকৃতির নিয়ম মেনে বা না মেনে? পুরুষের সঙ্গে পুরুষের? নারীর সাথে নারীর? অথবা পুরুষ বা নারীর সাথে কোন পশুর???

অশ্লীলতা এড়িয়ে, যথাসম্ভব শোভন/ শালীন ভাষায় বলতে পারি, যারা পারস্পরিক ‘সম্মতি’ তে ঘটা সবরকমের যৌন-স্বাধীনতা নিয়ে সরব-তারা কি পিতা-কন্যা, মাতা-পুত্র…এসব ছাড়াও পায়ু-মৈথুনের আইনি অধিকার চাইছেন? এই হলো তাহলে তাদের মতে ব্যক্তিস্বাধীনতা! যৌন-স্বাধীনতা! জানিনা, প্রায় ১২ বছর আগের মতন, আবার স্লোগান উঠবে কিনা-“অমুক খাটিয়ে খাই, তমুকের অধিকার চাই।”

 অনেকেই আছেন যারা বিষয়টা নিয়ে হয়তো একটু  বা বেশ বিভ্রান্ত। আবার একটা বড় অংশ সব জেনে বুঝেই চূড়ান্ত যৌন-অজাচারের পক্ষে এক গন-উন্মাদনা করতে চাইছেন। তোল্লাই দিতে চাইছেন এক লুম্পেন সংস্কৃতিকে।

 এটা নিঃসন্দেহেই এক সাংস্কৃতিক সন্ত্রাস। এই আগ্রাসন থামাতে প্রয়োজন পাল্টা আগ্রাসনের, যা বয়ে আনবে সুস্থ সংস্কৃতির ঝোড়ো বাতাস, যার শিরায়-শিরায় জানান দেবে দিন বদলের চেতনার তীব্র আকুতি।

 তাই, আহ্বান রাখছি সমস্ত সুস্থ চিন্তাসম্পন্ন, সাম্যকামী মানুষের কাছে-আসুন, রুখে দাঁড়ান। কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে আমরা সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলি এই নোংরা সংস্কৃতির বিরুদ্ধে যা সমাজের একটা অংশকে নিশ্চিতভাবেই ঠেলে দিতে পারে সীমাহীন নৈরাজ্য ও অজাচারের অন্ধকার দুনিয়ায়।

সংঘর্ষ অবশ্যম্ভাবী, নির্মাণও।

আমরা প্রস্তুত।

If you found this article interesting, please copy the code below to your website.
x 
Share

24 Responses to “যৌন-স্বাধীনতা না চূড়ান্ত অজাচার???”

  1. Anupam 15 December 2013 at 7:59 PM #

    Darun. I am agree with view. Long Live revolution. Long Long Live Probir Ghosh.

  2. sushanta57021 16 December 2013 at 7:03 AM #

    After the editorial on LGBT right, lots of people demanded a detailed explanation on SRAI’s stand on this subject. That doesn’t necessarily mean it clarified the concern logically any more than the previous short editorial did. However I am thankful that an attempt for the clarification has been made. I don’t demand any further response to my writing but if there’s any I would be obliged.

    One thing I can’t accuse this article of is its strikingly aggressive literary power; hence a little struggle to find out the core logic is justified. There are primarily two concerns raised here against homosexuality – it’s unnatural and it’s a threat to the culture.

    Before taking a plunge into those core issues few noisy premises so confusingly built in that article need to be dealt with. It talked about homosexuality as if it’s incest, and went on to compare it with prostitution and sex with animals. The huge logical fallacy can’t go unnoticed. We are talking about relationship albeit sexual between two consenting adults that can be best compared with heterosexual relationship. Any attempt to bring in all those seemingly logical dilemmas to malign homosexuality could be equally applied to the rather conventional form of relationship, i.e. heterosexual.

    The next question is what’s natural. Is there any god defined way of natural behaviour? Natural is whatever we are comfortable with. Homosexuality is not natural to me; similarly heterosexuality is not natural to any LGBT person. When it comes to individual’s choice, an individual should define that. Why should we take the extra burden of defining what’s natural for anyone else. That’s so uncalled for. As per article 377 any sexual relationship which isn’t meant for procreation (more explicitly penile-vaginal sex) even between husband and wife is a criminal act. Even in my worst dream I can’t believe that we can support a mediaeval law that plans to monitor something so personal.

    As far as a threat to the culture goes – does that even merit to be discussed on a rational forum? Whose culture are we talking about? All I want is that anybody become cultured enough not to peek into somebody’s bedroom. Is it too much to ask for?

    What is most important in life is what we care about. As we look back in our life we may find out that there are so many things we might have done that we are not proud of – we did those just because we cared about the wrong things. People care about religion, politics, culture, nation and what not – but can we ever afford to care about something that conflicts with our happiness, the happiness of the people around us. Just by caring about the right thing we could avoid so much unnecessary pain in the society. The question we should ask ourselves is can our “so called culture” be so important to us that we can ignore the happiness of so many LGBT people who bring absolutely no harm to the society by indulging in their love in the privacy of their bedroom.

  3. biplab das 16 December 2013 at 11:38 PM #

    দুবেলা দুমুঠো খেয়ে বেঁচে থাকার স্বাধীনতা নেই, নিজের মত করে চিন্তা ভাবনা করার স্বাধীনতা নেই, দুর্নীতির বিরুদ্ধে টুঁ শব্দ করার শক্তি রাষ্ট্রশক্তির কাছে বাঁধা পড়ে আছে – এদের দরকার শুধু যৌন স্বাধীনতার। ধর্মের হুজুগে চিঁড়ে ভিজছে না, শেষ দু তিন বছরে ভারতীয়রা কাশ্মির জুজুটিতেও রিঅ্যক্ট করছে না। নামল আসরে যৌন ব্যবসার দালাল রা। ১৯৯৭ সালেও এরকম একবার হয়েছিল।

  4. Satadal 17 December 2013 at 1:08 AM #

    377 dhara te ja ache tar khetre boli , “prakritik niyom er biruddhe”- e khetre to dekhi goratei golod, sekhetre amader bari te AC , fridge byabhar kora uchit noy, chokh kharap hole chosma pora uchit noy, prakritik durjog er somoy nirapod sthane na sore giye sei khanei dariye thakte hoy ( aay, amake maar)…

  5. Ram Nath Mahato 17 December 2013 at 4:17 PM #

    I am agree with this.

  6. Madhusudan Mahato 17 December 2013 at 4:19 PM #

    I am agree with Prabirda.

  7. sujoy chanda 17 December 2013 at 4:35 PM #

    Darun hoechhe ak dom chachha chhola!!

  8. ঋভু 18 December 2013 at 9:03 AM #

    চূড়ান্ত হাস্যকর লেখা। দুজন কন্সেন্তিং এডাল্টের মধ্যে যৌন সম্পর্ক হবে, তারা পুরুষ হোক নারী হোক পিতা পুত্র কন্যা হোক, তাতে সমাজের কি এসে যাচ্ছে সেটাই বুঝছিনা।

  9. ঋভু 18 December 2013 at 9:08 AM #

    আর মানুষ ছাড়া কোনো প্রাণী দাঁতও মাজেনা, কাপড় ও পরেনা। ওগুলোকেও “প্রকৃতি বিরুদ্ধ” বলে তুলে দিলেই হয়।

  10. pallab1234 18 December 2013 at 10:40 AM #

    বোকা লোকের ফালতু কথা।

  11. pallab1234 18 December 2013 at 10:46 AM #

    prabir ghosh র মতো জনগণের সমস্যা হল science ব্যাপার টা না বুঝেই যুক্তিবাদী হয়ে গেছেন ! হাস্যকর বোকাবোকা যুক্তি :)

  12. arindam2006a 19 December 2013 at 10:10 AM #

    It was quiet amusing to note the comments of pallab 1234 etc, who i feel are standing on the pinnacle of science & wisdom

    Actually, I’m wondering whether i missed out chapters of science which promotes male 2 male, mom-son, pop-daughter, male/ female 2 animal relations

  13. biplab das 19 December 2013 at 10:55 PM #

    dear arindam,
    not only you, i also missed the chapter of male- male, mom-son, pop-daughter and human-animal sexual relation. i think this type of syllabus read by Mr. pallab 1234 in his science college.

  14. biplab das 19 December 2013 at 11:30 PM #

    At the first phase of socialist govt in Russia homosexuality was not a subject matter because the communist leaders were not so much worried about this matter. But when Stalin came into power he banned homosexuality.
    Those who are so much vocal in favour of gay rights and claims themselves as communists, please go through Mao Zedong during the time of Cultural Revolution. For further studies they should read thoroughly the related laws in Soviet Russia during the Stalin era.

  15. soumik 20 July 2014 at 3:28 PM #

    get well soon… lekhoker hoy chikitsar proyojon ar noy porashonar….

  16. nicolas 14 March 2015 at 11:50 AM #

    Bullshit! what’s problem with anal sex?

  17. Arindam Munshi 14 March 2015 at 1:31 PM #

    I fully agree with Respected Prabir Ghosh on this issue

  18. Ramanuj 17 March 2015 at 12:06 AM #

    Who knew that the great Prabir Ghosh is a homophobic bigot.

  19. সুজন 17 March 2015 at 3:01 AM #

    এই পরিচ্ছেদটির লেখক প্রবীরবাবু
    illiterate( for his language and aggressiveness)
    homophobic(UN, scientists WHO, doctors supporting homosexuality, then who is this crazy writer)
    কু-যুক্তিবাদী(যে যুক্তির থেকে নিজের জিদ-পুর্ণ মতামতকে জাহির করতে পছন্দ করে)
    অভব্য(লেখনির ভাষাতেই প্রকাশিত)
    অমানবিক ও অচেতন(যৌনতা বলতে শুধু যোনী-নিঙ্গ সঙ্গম বুঝে যে)
    অসাম্যবাদী(সাম্য কিসের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয় তাই জানেন না)
    মুক্তচিন্তারহিত (আমরা ওরা ছন্দে উনি লিখছেন ‘আমাদের’ ঔচিত্যবোধ)
    হঠকারী(সমকামীতার সমর্থনকে সন্ত্রাসবাদ বলা)
    ভাষাজ্ঞানহীন(অজাচার মানেই জানেন না)
    বিজ্ঞানবিমুখ(বিজ্ঞান কি বলে তাও উল্লেখ করতে পারেন নি বা জানেনি না হয়ত)

  20. শান্তনু 18 March 2015 at 10:05 PM #

    জনাব প্রবীর ঘোষ, “যৌন স্বাধীনতা না চূড়ান্ত অজাচার” শীর্ষক লেখাটি আমি পরলাম। লেখাটি পরে কোনভাবেই আপনাকে মানববাদী তো দুরের কথা যুক্তিবাদীও বলতে পারছি না। লেখাটি পরে একটা জিনিসই শুধু বারে বারে উপলব্ধি করেছি আপনি আপনার হোমোফোবিয়া এবং যৌনতা সংক্রান্ত ছুতমার্গ ভুয়ো যুক্তিবাদীতার মোড়কে সবার কাছে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন। আর আপনার আক্রমণের মুল লক্ষ্য যে অজাচার নয়, বরং সমকামিতা সেটা সহজেই বোঝা যায়।

    প্রথমেই বললেন সমকামীরা ভোটব্যাংক, তা আমাকে একটু বলুন তো একটি গণতান্ত্রিক দেশে কোন মানুষটা ভোটব্যাংকের অন্তর্গত না। যে কোন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের দামই একটি ভোট। হোক সে সমকামী, বিসমকামী অথবা উভকামি। তারপরে আপনার যুক্তি দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করলেন ভারতীয় সংবিধান অনুসারে “যৌন স্বাধীনতা” আসলে মৌলিক স্বাধীনতার মধ্যে পরে না। একসময় তো ক্রীতদাশদের মানুষ হিসাবে গণ্য করা হত না, এই সেদিনও মহিলাদের ভোটাধিকার ছিল না। মৌলিক অধিকারের মধ্যে পরে না যুক্তি দিয়ে যদি তাদের সেই অধিকার গুলো না দেওয়া হত তাহলে তাহলে ঠিক কেমন হত? মানুষের জন্য আইন-সংবিধান নাকি আইন-সংবিধানের জন্য মানুষ, একটু ভেবে বলুন তো।

    আরেক অংশে আপনি বললেন, “যারা চীৎকার করে ‘পারস্পরিক সম্মতি’-তে গড়ে ওঠা সমস্ত যৌনসম্পর্ক-কেই স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে স্বীকৃতি দিতে চাইছেন, তাদের কাছে প্রশ্ন-আপনারা নিশ্চয়ই পিতা-কন্যা, মাতা-পুত্র, ভাই-বোন ইত্যাদির মধ্যে পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা যৌন-সম্পর্ককেও উদাত্ত কণ্ঠে স্বাগত জানাবেন।” সবার যে সব কিছুকে স্বাগত জানাতে হবে তা না, কিন্তু তাদের রুখবার আপনি কে? নাকি আপনি আপনার পরিবারের নিকটজনের যৌন জীবনকেও নিয়ন্ত্রণ করতে চান? আরেকটা ব্যাপার খেয়াল করেছেন কি যে আপনি অজাচার এবং সমকামিতাকে এক করে ফেলেছেন বেশ চতুর ভাবে। যারা এই ব্যাপারটা বোঝে না তারা যাতে কেউ এ নিয়ে কথা বলতে আসলে আপনি দুটোকে এক পাল্লায় মেপে আপনার কুযুক্তি প্রয়োগ করতে পারেন। ঝিকে মেরে বউকে শেখানোর কায়দাটা বেশ ভালোই রপ্ত করেছেন।

    আর আপনি ৩৭৭ ধারা নিয়ে যা দেখানেন, সেটা আসলে মোল্লাদের দেশের জন্য প্রযোজ্য আইন। কোন মানবিক দেশের আইন সেটা হতে পারে না। সমকামিতা কেন প্রকৃতির নিয়ম বিরুদ্ধ না সে আলোচনায় আমি যেতে চাচ্ছি না, তবে নিজেকে যেহেতু বিজ্ঞানের লোক বলেই পরিচয় দেন সে ক্ষেত্রে আপনার জানার কথা, সমকামিতা ইজ নট আ চয়েজ। আর যদি চয়েজ ও হত তারপরেও দুজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ তাদের বেডরুমে কি করছে সেটা নিয়ে আপনি মাথা ঘামানোর কে?

    কাঠমোল্লারা যেমন মানুষের ব্যাক্তিগত জীবনে তাদের লম্বা নাক প্রতিনিয়ত গলায় ঠিক সেরকম সাম্যের নামে, অপসংস্কৃতি, লুম্পেন সংস্কৃতি রুখবার নামে অনেকের ব্যাক্তিগত জীবনে নাক গলাবার চেষ্টা করছেন। এরকম চালিয়ে গেলে সংঘর্ষ আসলেই অবশ্যম্ভাবী।

  21. যারা কীট পতঙ্গ, পশু পাখীর সমকামিতার উদাহরণ দিয়ে তাদের অস্বাভাবিক কাম চাহিদা চরিতার্থ করার আন্দোলন করছে। তাদের সংঙ্গে তান্ত্রিকদের কোনো পার্থক্য নেই। যারা বেশ্যাবৃত্তি আইনি করার আন্দোলনে নেমেছে, তারা তাদের মা বাবা, ভাই বোন সবাইকে তাদের কামের চাহিদা মেটাতে ব্যবহার করবে। ওইসব আন্দোলনকারী আর তন্ত্র সাধনাকারী তান্ত্রিকদের কী কোনো পার্থক্য আছে ? মানব সভ্যতার ক্রম বিকাশের ইতিহাস থেকে জানা যায় মানুষ কিছু অভ্যাস পশু পাখি জন্তুজানোয়ার থেকে আলাদা করেছে, তার প্রথমটি হল কাম চিন্তা। যারা অবাধ যৌনতা, বহুগামীতা, সমকামিতা, অজাচার, বেশ্যাবৃত্তির মত আদিম প্রবৃত্তি বলে আন্দোলন করছে।তার আবার পশু পাখি জন্তুজানোয়ারের মত বা সেই উপরে উল্লেখিত ‘তান্ত্রিক ‘ দের মত মানববলির অধিকার আন্দোলনে নামবেন? নিদেনপক্ষে চুরিডাকাতির (পড়ুন আদিম ) পক্ষে রাস্তায় নামুন??

    আপনারা নামুন বা নামুন ওইসব অপরাধ (ভারত সহ পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশে) আপনাদের সমর্থে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শোষক শাষক শ্রেণীর সাহায্যে চলছে ওইসব নৃশংস মানব সভ্যতা ধংসকারী খুন, ধ্র্ষণ, রাহাজানী। কোথাও প্রাতিষ্ঠানিক র্ধমের নামে, কোথাও চরম প্রশাসনিক উৎশৃখলতার প্রকাশ ঘটছে ওইসব ‘আদিম প্রবৃত্তি’। সিরিয়ার র্ধমান্ধ আই. স. থেকে ভারতে ৭০ বছর বৃদ্ধা র্ধষন; চরম র্ধমান্ধতা থেকে চরমকাম। দুটিই অস্বাভাবিক, অমানুষিক , সভ্যতার পরিপন্থি।
    যেখানে র্ধমীয় প্রতিষ্ঠান অসহায় হয়ে তাদের ঈশ্বরের আস্থা না রেখে সামাজিক আইনের দারস্থ। সেখানে ওইসব ব্যাভিচারী মানুসিক রুগীদের বিরুদ্ধে যুক্তিবাদী আন্দোলনকে ঘোলা করে দিতে ব্যস্ত শোষক শাষক থেকে সভ্যতাকে আদিমতায় নিতে ব্যস্ত প্রগতিশীলরা (স:)।

    ওইসব ধান্দাবাজ বিকৃতকামী র্ধমান্ধদের বিরুদ্ধে ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির আন্দোলন চলছে চলবে।

    প্রশাসনের সদিচ্ছার প্রতি সন্ধেহ রেখেও ভারতের সাংবিধানিক আইনি ব্যবস্থা বলবত করুন, আইনি বইয়ে আবদ্ধ না রেখে।
    প্রশাসনের প্রতি অনুরধ :-
    ১) বিকৃতকামী র্ধষকদের ফাঁসি দিতে হবে।
    ২) সমকামী, বিকৃতকামীদের বিরুদ্ধে যে আইন আছে ( ৩৭৭ ধারা ) প্রয়োগ করতে হবে।
    ৩) বেশ্যাবৃত্তি রোধে যে PITA আইন আছে প্রয়োগ করতে হবে। (হিস্যা নিয়ে চেপে গেলে চলবেনা)
    ৪) আজাচার, নারীত্ব এ অপমানকর প্রতিষ্টানীক র্ধমাচারন আইন প্রয়োগ করে বন্ধ করতে হবে।
    ৫) র্পনোগ্রাফী, নগ্নতার বহুগামিতার রদ্ধে যে আইন প্রয়োগ করতে হবে।
    ৬) বিভিন্ন মিডিয়ার দায়বদ্ধতার প্রতি সর্তক থাকবে, না থাকলে ব্যবস্থা নিতে হবে।
    ৭) র্ধমান্ধতা, অলৌকিকতা বিরুদ্ধে যে আইন আছে তার প্রয়োগ।
    ৮) র্ধমীয় শিক্ষার বদলে মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে।
    ৯) বিজ্ঞান শিক্ষা, যুক্তিবাদী চিন্তার প্রসার করতে হবে।
    ১০) প্রশাসনকে মানুষের নূন্যতম অধিকার সমন্ধে জানার ব্যবস্থা করতে হবে।

    বহু আইন তৈরি হওয়ার পর ব্যবহার করেনি প্রশাসন। খাতায় রেখে কি লাভ??(ও হিস্যা!!)

    অনাবিল সেনগুপ্ত,
    সংযুক্ত সম্পাদক, ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি।

  22. যারা কীট পতঙ্গ, পশু পাখীর সমকামিতার উদাহরণ দিয়ে তাদের অস্বাভাবিক বা প্রকৃতি বিরুদ্ধ কাম চাহিদা চরিতার্থ করার আন্দোলন করছে, তাদের সঙ্গে তান্ত্রিকদের কোনো পার্থক্য নেই (তন্ত্রসাধনায় কাম বা সম্ভোগ প্রধান উপকরণ তা যেকোনো মহিলা হলেই হবে, নিজের মেয়ে হলেতো ভালোই!!)।
    যারা বেশ্যাবৃত্তি আইনি করার আন্দোলনে নেমেছে, তারা তাদের মা বাবা, ভাই বোন সবাইকে তাদের কামের চাহিদা মেটাতে ব্যবহার করবে ওই তান্ত্রিকদের বা বিকৃতকামীদের মতোই ? ওইসব আন্দোলনকারী আর তন্ত্র সাধনাকারী তান্ত্রিকদের কী কোনো পার্থক্য আছে ?
    মানব সভ্যতার ক্রম বিকাশের ইতিহাস থেকে জানা যায় মানুষ কিছু অভ্যাস পশু পাখি জন্তুজানোয়ার থেকে আলাদা করেছে, তার প্রথমটি হল কাম চিন্তা। যদিওবা আদিম অবস্থায় সমকামী চিন্তা ছিলনা।
    যারা অবাধ যৌনতা, বহুগামীতা, সমকামিতা(নব্য), অজাচার, বেশ্যাবৃত্তির মত আদিম প্রবৃত্তি বলে(?) আন্দোলন করছে।
    তার কী আবার পশু পাখি জন্তুজানোয়ারের মত, আদিম মানুষের মত বা উপরে উল্লেখিত ‘তান্ত্রিক ‘ দের মত খাদ্য বা কাম সম্ভোগের জন্য মানববলির অধিকার আন্দোলনে নামবেন? বা নিদেনপক্ষে চুরি ডাকাতির মতো আদিম প্রবৃত্তি পক্ষে রাস্তায় নামবেন??

    আপনারা নামুন বা না নামুন ওইসব আদিম অপরাধ আজ ভারত সহ পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশে প্রকাশ্যে করে উল্লাস করছে। আপনাদের সমর্থনে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আজ শোষক শাষক (শোষণের সুবিধার্থে) শ্রেণীর সাহায্যে চলছে ওইসব আদিম প্রবৃত্তি নৃশংস মানব সভ্যতা ধংসকারী খুন, ধর্ষণ, রাহাজানী। কোথাও প্রাতিষ্ঠানিক র্ধমের নামে, কোথাও বা চরম প্রশাসনিক উৎশৃখলতার সুযোগে প্রকাশ ঘটছে ওইসব ‘আদিম প্রবৃত্তি’।
    সিরিয়ার র্ধমান্ধ আই. স. এল. আই. (I.S.I.L) এর হত্যা থেকে ভারতে ৭০ বছর বৃদ্ধা সন্যাসীনির ধর্ষণ । একি মুদ্রার দুই পিঠ!!
    চরম র্ধমান্ধতা থেকে চরমকাম!! দুটিই অস্বাভাবিক, অমানুসিক , মানব সভ্যতার পরিপন্থি।
    যেখানে র্ধমীয় প্রতিষ্ঠান (ভ্যাটিকান) অসহায় হয়ে তাদের ঈশ্বরের আস্থা না রেখে সামাজিক আইনের দারস্থ হয়।
    সেখানে ওইসব ব্যাভিচারী, মানব সভ্যতার ধংসকারী মানুসিক রুগীদের বিরুদ্ধে যুক্তিবাদী তথা সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে ঘোলা করে দিতে ব্যস্ত শোষক শাষকদের আজ্ঞা বহনকারী প্রগতিশীল মুক্তমনার দল। ওই সকল শাষকদের দাসরা সভ্যতাকে আদিমতায় নিতে ব্যস্ত। ওইসব প্রগতিশীলরা সভ্যতাকে ‘আদিম সাম্যের'(?) নিয়ে যাবে?

    ওইসব শাষক বা তাদের শোষণকারী ধান্দাবাজ প্রগতিশীল, বিকৃতকামী, র্ধমান্ধদের বিরুদ্ধে সমস্ত অজাচার, শোষণের বিরুদ্ধে ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির সাংস্কৃতিক আন্দোলন চলছে চলবে।

    প্রশাসনের সদিচ্ছার প্রতি সন্ধেহ রেখেও ভারতের সাংবিধানিক আইনি ব্যবস্থা বলবৎ করুন,
    আইনি বইয়ে আবদ্ধ না রেখে।

    প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ :-

    ১) বিকৃতকামী র্ধষকদের ফাঁসি দিতে হবে।

    ২) সমকামী, অজাচারী, বিকৃতকামীদের বিরুদ্ধে যে আইন আছে (৩৭৭ ধারা) প্রয়োগ করতে হবে।

    ৩) বেশ্যাবৃত্তি রোধে যে PITA আইন আছে প্রয়োগ করতে হবে। (হিস্যা নিয়ে চেপে গেলে চলবেনা)

    ৪) আজাচার, নারীত্ব এ অপমানকারী প্রতিষ্ঠানিক র্ধমাচারন আইন প্রয়োগ করে বন্ধ করতে হবে।

    ৫) র্পনোগ্রাফী, নগ্নতাকে পন্যকারী, বহুগামিতার বিরদ্ধে প্রকাশ্যে উৎশৃখলতা বা নৃশংসতা রোধে যে আইন আছে (পাবলিক ইনোসেন্ট এক্ট ইত্যাদি) প্রয়োগ করতে হবে।

    ৬) বিভিন্ন মিডিয়ার বা সোসাল মিডিয়ার তার দায়বদ্ধতার প্রতি সর্তক থাকবে, না থাকলে অব্যশই ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ৭) র্ধমান্ধতা, অলৌকিকতা বিরুদ্ধে যে আইন আছে তার প্রয়োগ। ( বহু আইন তৈরি হয়েছে যা ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির কাজ কর্মে বা বহুল ব্যবহারে হাজারের উপর বুজরুক পুলিশি জালে ধরা পরেছে।)

    ৮) র্ধমীয় শিক্ষার বদলে মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে।

    ৯) বিজ্ঞান শিক্ষা, যুক্তিবাদী চিন্তার প্রসার করতে হবে।

    ১০) প্রশাসনকে মানুষের নূন্যতম অধিকার সমন্ধে জানার ব্যবস্থা করে দিতে হবে ।

    বহু আইন তৈরি হওয়ার পর ব্যবহার করেনি প্রশাসন। খাতায় রেখে কি লাভ?? (ও হিস্যা!!)

    অনাবিল সেনগুপ্ত,
    সংযুক্ত সম্পাদক, ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি।

  23. SANTANU DAS 1 July 2015 at 8:43 AM #

    মানুষ একলিঙ্গ প্রাণী , নারী- পুরুষ ভাগ . উত্তরাধিকার প্রজন্মের ক্ষেত্রে নারী পুরুষের মিলন অবশ্যম্ভাবী . তার নিমিত্ত যৌন্যমিলান .তাই এই যৌন্যমিলান প্রাকৃতিক . তবে এই যৌন্যমিলান সন্তান্নিমিত্ত বিহীন হতে পারে কিন্তু সেটা প্রাকৃতিক. আর এই কারণেই সমকামী প্রেম অপ্রাকৃতিক.

  24. Dwijapada Bouri 29 October 2015 at 12:30 PM #

    Good post…………Biplob cholche….cholbe…..


Leave a Reply