সমিতির নাম ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা ষড়যন্ত্রকারীদের পর্দাফাঁস

মিথ্যার ফানুস ধ্বংস করতে বোমার প্রয়োজন হয়না। একটা সামান্য আলপিনই যথেষ্ট।
পৃথিবী বিখ্যাত যুক্তিবাদী শ্রদ্ধেয় প্রবীর ঘোষকে ‘ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি’ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এটা এমনই একটা মিথ্যার ফানুস।
দেবাশিস ভট্টাচার্য এবং তার সঙ্গী সাথীরা ১৯৯৬ থেকে লাগাতার যখনি যেখানে সুযোগ পেয়েছে সেখানেই এই মিথ্যা প্রচার করে গেছে।
যুক্তিবাদী আন্দোলনকে বিপথগামী করে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতেই তারা এই জঘন্য কাজ করে চলেছে।
আদর্শ নয়, স্বার্থই যাদের কাছে মুখ্য তারা যে নিজেদের মধ্যেও খেয়োখেয়ি করে মরবে সেটাই স্বাভাবিক।
তাই ১৯৯৬ এর মহারথীরাও নিজেদের মধ্যে বহু উপদলে বিভক্ত হয়েছে এবং পরিণতিতে অনেকেই হারিয়ে গেছে।
এখনও যারা কুৎসা করে চলেছেন তারা হলেন নিজেকে ‘ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করা দেবাশিস ভট্টাচার্য এবং তার সঙ্গী সাথী।
যুক্তিবাদের অ-আ-ক-খ যাদের প্রবীর ঘোষ পরম মমতায় নিজে হাতে শিখিয়েছিলেন, সেই তারাই ১৯৯৬ সাল থেকে লাগাতার ১৩ টা কেস করে ভেবেছিল প্রবীর ঘোষকে শেষ করে সমিতি দখল করবে।
কিন্তু, কথায় বলে বাপ বাপই থাকে। তাই এত ঝড় ঝাপটা সামলেও প্রবীর ঘোষ স্বমহিমায় বর্তমান।
সাম্প্রতিক মাদার টেরেসা সেন্টহুড ইস্যুতেও ২০ টিরও বেশি আন্তর্জাতিক মিডিয়া তার বক্তব্য ছেপেছে।
পৃথিবীবিখ্যাত বই 50 Voices of Disbelief (Why We Are Atheists) যাতে জেমস র‍্যান্ডি, রিচার্ড ডকিন্সের মত ব্যক্তিত্বরা লিখেছেন সেখানেও সারা ভারত থেকে মাত্র দুজন লিখেছেন।
দুজনেই আমাদের সমিতির আপনজন। একজন সুমিত্রা পদ্মনাভন, এবং অপরজন অবশ্যই প্রবীর ঘোষ।
মূল প্রসঙ্গে ফেরা যাক। ফেসবুকে পরস্পরের বিরুদ্ধে বক্তব্য পেশ করা দুটো ‘ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি’ দেখে অনেক মুক্তমনা বন্ধুই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। মূলত, সেই কারণেই এই বক্তব্য পেশ করছি।
আমরা নিশ্চয় জানি, ভারতে The Societies Registration Act,1961 অনুসারে একই নামে দুটো রেজিস্টার্ড সংগঠন থাকতে পারেনা।
যেমন দুটো ইস্টবেঙ্গল অথবা দুটো মোহনবাগান ক্লাব থাকতে পারেনা, তেমনি দুটো ‘ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি’ হওয়াও সম্ভব নয়।
পশ্চিমবঙ্গে সোসাইটি রেজিস্ট্রেশনের অফিসের ঠিকানা হলঃ-

Todi Mansion (8th Floor)
P-15 India Exchange Place Extension, Kolkata-700 073.
Near Lalbazar Police Head Quarter

সংশ্লিষ্ট অফিসের রেকর্ড অনুসারে ৮ ডিসেম্বর, ১৯৮৯ ‘ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি’ রেজিস্টার্ড সংগঠন রূপে গণ্য হয়। ‘ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি’র রেজিস্ট্রেশন নম্বর হল S/63498 of 1989-90
রেকর্ড অনুসারে সংগঠনটির তৎকালীন এবং বর্তমান প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা হল ৭২/৮, দেবীনিবাস রোড, কলকাতা-৭৪। কখনোই এই ঠিকানা পরিবর্তন হয়ে ৩১, প্রাণকৃষ্ণ সাহা লেন, বরানগর, কলকাতা-৩৬ হয়নি।
প্রতিটি রেজিস্টার্ড সংগঠনকে নিয়মিতভাবে ঐ অফিসে গিয়ে নির্ধারিত মূল্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন রিনিউ করতে হয়।
যেকোনও নাগরিক কোনও সংগঠনের রেজিস্ট্রেশনের প্রকৃত তথ্য জানতে ঐ অফিসে যোগাযোগ করে সত্য-মিথ্যা যাচাই করতে পারেন।
আমার বক্তব্যের প্রমাণ স্বরূপ সমিতির রেজিস্ট্রেশনের কপি, বর্তমান নির্বাচিত কার্যকরী কমিটির তথ্যাবলী, রেজিস্ট্রেশন রিনিউ করার পেমেন্ট স্লিপ, সমিতির লোগো রেজিস্ট্রেশনের কপি পোস্ট করলাম।

20108283_1558890310850956_3378045765816226294_n

20046384_1558890077517646_8231967577684650671_n20046318_1558933254179995_1251476321786395277_n19961590_1558890167517637_1992868348106106588_n
আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন ‘ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি’র সভাপতি স্বয়ং প্রবীর ঘোষ এবং সাধারণ সম্পাদক হল মণীশ রায়চৌধুরী অর্থাৎ আমি।
সকল মুক্তমনা বন্ধুকে অনুরোধ ঠগ, প্রতারক দেবাশিস ভট্টাচার্য এবং তার সঙ্গী সাথীরা যখনি প্রবীর ঘোষকে বহিষ্কারের মিথ্যাচার করবে তাদের কাছে উপরে উল্লিখিত প্রমাণগুলি দেখতে চাইবেন।
তারা যদি সত্যিই প্রবীর ঘোষকে বহিষ্কার করে থাকে এবং দেবাশিস ভট্টাচার্য যদি ‘ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি’র প্রকৃত সাধারণ সম্পাদক হন তাহলে তার কাছে এই প্রমাণগুলি অবশ্যই থাকা উচিত।
ওদের পাল্টা প্রশ্ন করলেই সত্য-মিথ্যা নিজেরাই বুঝে যাবেন।

মণীশ রায়চৌধুরী
সাধারণ সম্পাদক
ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি

If you found this article interesting, please copy the code below to your website.
x 
Share

Leave a Reply