THANK ‘GOD’, PUJO IS OVER!

উফ! পুজো শেষ হল; হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম সবাই—

সুমিত্রা পদ্মনাভন

আমরাও ঘুরেছি, আত্মীয় বন্ধুদের সঙ্গে দেখা, অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া, সবই করেছি, সুস্থ অল্পবয়েসী থেকে মাঝবয়েসীরা অনেকেই করেছেন। মুগ্ধ হয়েছি কোথাও প্রতিমা দেখে, কোথাও মন্ডপের কাজ দেখে। সবচেয়ে ভালো লাগে যখন কম বাজেটে সুক্ষ্ম শিল্পবোধের পরিচয় পাই। যদি কোথাও দেখি নতুন ধারণার জন্ম; যেমন শান্তিনিকেতনে বাঁধের ধারে সাঁওতালদের পুজো, যেখানে সব দেব-দেবীদের হাতে থাকে পদ্মফুল।সন্ধ্যেবেলায় মাদল বাজিয়ে স্থানীয় মানুষজনদের নাচ-গানের অনুষ্ঠান। ঢাকও বাজে, কিন্তু মাইক নেই। ওই ইউক্যালিপ্টাসের বনে না ঢুকলে জানতেও পারবেননা ওখানে উতসব হচ্ছে।

–(হীরালিনী দুর্গোতসব, বল্লভপুর, শান্তিনিকেতন)

হীরালিনী দুর্গোতসব, বল্লভপুর, শান্তিনিকেতন

নেতাজী স্পোর্টিং ক্লাব, লেকটাউন

কিন্তু সত্যিই কি এই পুজো বাঙালিদের পুজো? তাহলে উত্তরে পাহাড়ের বাঙালিরা? পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার জঙ্গলে বাঙালিরা? না কি তারা বাঙালি নয়। শুধু পশ্চিমবঙ্গবাসী।

হ্যাঁ, এই পুজো প্রধানত কলকাতার পুজো। জেলা জেলা থেকে এই গরমে কষ্ট করে এই ভীড়, ঠেলাঠেলি, আওয়াজ, আলো, ফুচকা, রোল, ভেলপুরি – চাখতে আসে সবাই। তাতেই শহরের নাভিশ্বাস ওঠে। তাই কলকাতার বাঙালির একটা বড় অংশ চলে যায় গ্যাংটক বা দিল্লী-সিমলা। আর প্রবাসী ছাত্র-ছাত্রীরা যায় দেশের বাড়ি – সেখানে পুজো নেহাতই ব্যক্তিগত, পরিবারগত বা পাড়ার আড্ডা।

কলকাতা সত্যিই ভালো লাগেনা।

১। একটা ছোট নার্সিং হোমের গেটের সামনে দিয়ে চলে গেছে বাঁশের বেড়া – ঠাকুর দেখার লাইন হবে সন্ধ্যে থেকে রাত। হঠাত এমার্জেন্সি পেশেন্ট এলে ঢুকতে প্রাণ বেরবে।

২। কাকলি আসন্নপ্রসবা। সম্ভাব্য তারিখ ছিল—৬/১০। ডাক্তার মানুষ ভালো, বললেন আমি তো আসব, কিন্তু বাকি কর্মচারীদের কথা বলতে পারছিনা। অতএব, ২৮ তারিখে দিন ঠিক করে সিজারিয়ান হল। অথচ শিশুর অবস্থান বলেছিল নর্মাল ডেলিভারি হবে-ই।

৩। অঞ্জন বাবুর হঠাত প্রেশার বেশি, মাথা ব্যথা—আরও কিছু অদ্ভূত উপসর্গ। অবস্থা ভাল, ভর্তি হলেন নামজাদা বেল-ভিউ নার্সিং হোমে। তিন দিন পর একটু ভাল হলেও বন্ধু ডাক্তার আরও পরীক্ষা করতে বলে ছেড়ে দিলেন। আরো বললেন, পুজোর মধ্যে আবার কিছু বাড়াবাড়ি হলে গ্যরান্টি দিতে পারছিনা … বোঝেনই তো! অঞ্জনবাবু সস্ত্রীক চেন্নাই উড়ে গেলেন পঞ্চমীর দিন। ওখানে বন্ধু, হাসপাতাল …কেউ ফেরাবে না।

সত্যি লজ্জা হয় ভাবতে। এটা আমাদের উতসব! আমাদের আনন্দের প্রকাশ!

আমরা কি পাল্টাতে পারিনা? সবই কি বিঞ্জাপনদাতারাই লুটে নেবে? আমাদের বোধবুদ্ধি, আমাদের রুচি, শিল্পবোধ? আমরা কি জানিনা শিল্পবোধের অন্যতর প্রকাশ? আমাদের যে আশ্চর্য্য কর্মোদ্যম, রাতারাতি একটা সময়সীমার মধ্যে বিশাল, জটিল, খরচসাপেক্ষ সমস্ত প্রতিমা, প্যান্ডেল, আলোর খেলা নামিয়ে দিই প্রতিবছর, সেই উদ্যম তো কই অন্য কোথাও দেখিনা! কেন?

আসুন আমরা চেষ্টা করি এই অতি-উতসাহে একটু রাশ পরাতে।

চাঁদার চাপে নতিস্বীকার করবেন না। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী বা নিরীশ্বরবাদীরাও নেহাত ভদ্রতারক্ষার জন্যে চাইলে এক জায়গায় সাধ্যের মধ্যে চাঁদা দিন। বুঝিয়ে বলুন— সার্বজনীন মানে অনেকে মিলে একটা পুজো, একেকজন অনেকগুলো পুজো নয়। অঙ্কের হিসেব। আর সত্যি কথা বলতে কি, আপনার-আমার চাঁদায় পুজো হয়না, হয় বিঞ্জাপনদাতাদের টাকায়। তাই, অমুক পুরস্কার, তমুকের প্যান্ডেল –ইত্যাদি প্রচারকে বেশি পাত্তা দেবেন না। এইরকম ভাবে একটু মিঠেকড়া সমালোচনার মধ্যে দিয়ে আগামী দিনের পুজোকে কিছুটা বাহুল্যবর্জিত, সুন্দর, বোধগম্য করে তোলা যায় নিশ্চয়ই। করতে পারি আমরাই।

==============


If you found this article interesting, please copy the code below to your website.
x 
Share

4 Responses to “THANK ‘GOD’, PUJO IS OVER!”

  1. নীল ধ্রুবতারা 8 October 2011 at 12:24 PM #

    খুব সুন্দর পোস্ট, ভালো লাগল।হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম…মানে মনে হচ্ছে যেনো প্রান ফিরে পেয়েছি।অকারনে দিন-রাত খালি গান আর গান।না পারি ঘুমাতে না পারি শান্ত মাথায় কিছু ভাবতে।পারলে মাইকগুলো আমার ঘরে এসেই বাজায় এমন ভাব এদের।শব্দ নিয়ন্ত্রনের আইন নামেই আছে, তা বলবত করার প্রবনতা এদের কার মধ্যেই দেখিনা। চাদার জুলুমতো দিন কাল বেড়েই চলেছে। আর সাধারন মানুষ তা মানতে বাধ্য হচ্ছে কারন অধিকাংশ ক্ষেত্রে চাদা আদায়কারীরা হলেন সমাজ বিরোধী। আসলে এখন চাদা আদায়ের নামে চলে তোলাবাজি। আমি মনে করি আইন করে চাদার সর্বচ্চো মান বেধে দেওয়া উচিত।

  2. Anupam 9 October 2011 at 12:22 PM #

    Agreed with Sumitra di. Don’t know when this superstitious act will stop.

  3. Dwijapada Bouri 10 October 2011 at 10:40 AM #

    I agree with Sumitra di.

  4. KAUSIK SARKAR 16 October 2011 at 8:48 AM #

    Osadharan,Simitra Di.
    Congratulation & Hats Off to you!!!

    Kausik Sarkar/Baranagar/Kolkata


Leave a Reply